ধর্ষণের সময় চিৎকার দেয়ায় ছাত্রীকে হত্যা করলো দুলাভাই!


Published: 2019-06-22 22:13:01 BdST, Updated: 2019-12-16 05:49:31 BdST

ব্রাহ্মণবাড়িয়া লাইভ: স্ত্রীকে অচেতন করে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের সময় চিৎকার দেয়ায় ওই ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পাষণ্ড দুলাভাই।

এঘটনায় অভিযুক্ত দুলাভাই নাঈম ইসলাম পুলিশের কাছে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। শনিবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর (পূর্ব) ইউনিয়নে অষ্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি নাটাই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের শালগাঁও গ্রামের মৃত বসু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৭ জুন ওই ছাত্রী তামান্না তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসে। গত ১৯ জুন রাতে স্ত্রী স্মৃতি আক্তার ও শিশু কন্যা জান্নাতকে আমের জুস খাইয়ে অচেতন করার পর তামান্নাকে ধর্ষণ করে তার দুলাভাই নাঈম। ধর্ষণের সময় তামান্না চিৎকার শুরু করায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নাঈম। পরদিন ২০ জুন সকালে নাঈমের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার গ্রামের এক সর্দারকে ডেকে আনলে নাঈম পালিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার তামান্না বোনের বাড়ি থেকে ফিরে আসতে চাইলে দুলাভাই অনেকটা জোর করেই তাকে বাড়িতে রাখেন। পরে রাতে তামান্নাকে আমের জুস খাওয়াতে চান নাঈম। কিন্তু তামান্না রাজি হয়নি। এর পরই নাঈম তামান্নাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। অচেতন থেকে জেগে ওঠার পর তাঁর বোন তামান্নাকে ডাকাডাকি করেন। এর মধ্যেই নাঈম কৌশলে পালিয়ে যান। পরদিন তামান্নার  মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও বিজয়নগর সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার রেজাউল কবির জানান, নিহত তামান্নার মায়ের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে মামার বাড়ি থেকে নাঈমকে আটক করা হয়।

রেজাউল কবির জানান, মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ দিতে পারব।

পালিয়ে যাওয়ার পর নাঈম অষ্টগ্রামে তার মামা শফিক মিয়ার বাড়িতে গা ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করছিল। সোর্সের মাধ্যমে নাঈমের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে তার মামার বাড়িতে ঢোকার সময় পুলিশ তাকে আটক করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, নাঈম আমাদের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আমরা আশা করছি সে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে।

এদিকে ছেলের এই অপকর্মের ঘটনায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে শনিবার ভোরে জেলার নবীনগর উপজেলার গোসাইপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নাঈমের বাবা বসু মিয়া। সকালে নবীনগর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।


ঢাকা, ২২ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।