বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁস করে দেয় কোচিং সেন্টারের ওরা ৫ সদস্য!


Published: 2019-05-06 02:09:57 BdST, Updated: 2019-05-22 01:13:09 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়ে যায়। এর পেছনে কোচিং সেন্টারের একটি বড় হাত রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে একটি চক্র প্রশ্ন ফাঁস করে। বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁস করে এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের পাঁচ সদস্য ইতিমধ্যে তাদের হেফাজতে রয়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে বিসিএসের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে থাকে চক্রটি। ঘটনার তদন্ত করছেন ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের রোবারি প্রিভেনশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) সুশংকর মল্লিক। আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তারা সবাই কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন-কুষ্টিয়ার জাফর আহম্মেদ, ফরিদপুরের নাজমুল হায়দার, নীলফামারীর রাশিদ উদ্দিন, রাজশাহীর ওবাইদুল্লাহ আল-মামুন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবু ওবায়দা রাহিদ। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপসহ ডিজিটাল পদ্ধতিতে চক্রটির বিসিএসের প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নিউমার্কেট থানায় শনিবার মামলা করে ডিবি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পাঁচজনকে শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ডিবি। এই চক্রের পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য প্রত্যেক আসামির দশ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে।

পুলিশের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় ঢাকা কলেজের সামনে ডিবির একটি দল অবস্থান করছিলেন। তখন ডিবির সদস্যরা জানতে পারেন, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের কয়েকজন পল্লবীর বাসায় অবস্থান করছেন। চক্রটি ঢাকা কলেজ ও ঢাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অংশগ্রহণকারী বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। ডিবির দলটি বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে পল্লবীর ওই বাসায় অভিযান চালায়। তখন আসামি জাফরের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে। একই সময় অপর আসামি নাজমুলের কাছে পায় বিসিএস প্রফেসার্স গণিত গাইড, যা জব্দ করা হয়। দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা জানান, টাকার বিনিময়ে তিনজন বিসিএস পরীক্ষার্থীকে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস দিয়েছেন। এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও ঢাকা কলেজে। শুক্রবার বিসিএস পরীক্ষা চলাকালে ডিবির দলটি ওই তিনটি কেন্দ্রে অভিযান চালায়। মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ওবাইদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে রশিদ উদ্দিন এবং ঢাকা কলেজ থেকে রাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া ইলেকট্রনিকস ডিভাইস জব্দ করা হয়।

ঢাকা, ০৬ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।