হাবিপ্রবিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মামলার শিকার সভাপতি!


Published: 2018-11-23 16:51:39 BdST, Updated: 2018-12-11 02:29:14 BdST

হাবিপ্রবি লাইভ: হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) গত ১৪ নভেম্বর ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারের কক্ষে হামলার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মামলার শিকার হয়েছে হাবিপ্রবিসাসের সভাপতি।

জানা গেছে, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (হাবিপ্রবিসাস) সভাপতির নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক হাসান জামিল জেনিথ। ওই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, এ্যাডভাইজার ও কয়েকজন ছাত্রনেতাকেও জরানো হয়েছে।

মামলায় শিকার অভিযোগ করে জানান, হামলার ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহিউদ্দিন নুর। ঘটনার শেষে সংবাদ সংগ্রহের কাজে সেখানে যান তিনি। তার উপর আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।

উল্লেখ্য ইনক্রিমেন্টের দাবীতে গত বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন সদ্য পদন্নোতি পাওয়া শিক্ষকরা। সেদিন ওই ঘটনায় সময় হাবিপ্রবির রেজিষ্টার, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালকসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনা স্থলে পৌছালে শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে সদ্য পদন্নোতি পাওয়া শিক্ষকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাদের ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই তিনটি পৃথক মামলা দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঘটনার ৭ দিন পরে গত বুধবার উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তাকে ৫ নম্বর আসামি করা হয় তাকে।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহিউদ্দিন নুর বলেন, এই ঘটনা ওইদিন বিকেলের দিকে এসব ঘটনা ঘটে। তবে আমি সন্ধ্যার পরে সেখানে যাই। আমি সেখানে যাওয়ার আগেই ট্রেজারার স্যার কে উদ্ধার করে প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলা থেকে তিন তলায় ভিসি স্যারের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই আমি সরাসরি সেখানেই যাই। অথচ আমাকে মামলায় জড়ান হয়েছে নিচ তলায় ট্রেজারার স্যারের রুমের ঘটনায়।

প্রশাসনিক ভবনের প্রতি ফ্লোরে ফ্লোরে সিসি ক্যামেরা আছে, সেগুলো চেক করলেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি তিনি এ ব্যাপারে কোন তথ্য উপাত্তই দেখাতে পারবেন না। কারণ মিথ্যা মিথ্যাই।

এসময় তিনি আরও বলেন, জেনিথ তো সদ্য পদন্নোতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কেউ না , তাহলে তিনি কিভাবে এবং কেন সেখানে যাবেন? সন্ধ্যার পরে তার কি কাজ সেখানে? আর আমি সেখানে ছিলাম না মর্মে ট্রেজারার নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো সাদা দলের যে দুজন শিক্ষককে এই মামলায় সাক্ষি করা হয়েছে তারাও ঘটনার সময় প্রশাসনিক ভবনের ত্রিসীমানায় ছিলেন না। তাই তার এই মামলার কোনই ভিত্তি নেই। শুরু থেকেই যেকোন ঘটনায় তিনি কোন কিছু হলেই তার স্ত্রী কে সামনে নিয়ে এসে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন , এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একজন শিক্ষক হিসেবে তার কাছে এ ধরনের আচরণ কাম্য না।

হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলার ঘটনায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার উপর আঘাত করা হয়েছে। এই ধরণের মিথ্যা মামলা নিয়ে নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, আমরা এটা কখনোই চাইনি। আমাদের আন্দোলনকে নিয়ে শিক্ষকদের একটি গ্রুপ খেলছে। এই মামলা পুরোপুরি বানোয়াট, আমরাও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো।

এদিকে ইতোমধ্যে এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মসূচী ঘোষণা করেছে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি। এ ব্যাপারে তারা দেশের সকল প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব, রিপোটার্স ইউনিটি সহ পুরো সাংবাদিক সমাজের সহযোগিতা চেয়েছেন।

 


ঢাকা, ২৩ নভেম্বর (ক্যাম্পানলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।