কিশোরদের মুখোশ বাহিনীর চাঞ্চল্যকর তথ্য...


Published: 2018-09-22 15:38:33 BdST, Updated: 2018-12-14 16:46:40 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জ শহরবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম ‘মুখোশ বাহিনী’। ১৫/২০ জনের একটি মুখোশধারী কিশোর দল বিনা কারণে হঠাৎ হামলা-ভাঙচুর বা কাউকে কুপিয়ে আহত করছিল অনেকদিন ধরে।

কোন না কোন অপরাধ ঘটিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে মুখোশধারীরা। অনেক চেষ্টা করেও পুলিশ তাদের ধরতে পারছিল না। অবশেষে সামাউল হক নিলয় নামে মুখোশ বাহিনীর এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে অপরাধের চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্কুলপড়ুয়া কিশোর অপরাধী সামাউল হক নিলয় মুখোশ বাহিনীর অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. কাজল মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিলয় বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর অপরাধী দল শহরে মুখোশ পরে হামলা-ভাঙচুর ও খুন-জখমের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাদের হামলায়, শহরের বত্রিশ এলাকায় রাজা নামে এক যুবক নিহতসহ অন্তত ১০/১১ জন গুরুতর আহত হয়। এ ছাড়াও বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।

নিলয়কে গ্রেফতারের পর অন্য কিশোর অপরাধীদের আটকে মাঠে নামে পুলিশ। ইতোমধ্যে এ চক্রের আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, শহরে বিভিন্ন এলাকায় মুখোশ পরা একটি অপরাধী চক্র হামলা-ভাঙচুরের তাণ্ডব চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। পুলিশ তাদের চিহ্নিত করতে পারছিল না। গত ১১ সেপ্টেম্বর এ ধরনের একটি হামলার ঘটনায় শহরের আজিমুদ্দিন স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র নিলয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে নেয়া হলে সে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাসহ অন্তত চারটি সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সে।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানা ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিলয়কে শনাক্ত করা হয়। নিলয়কে আরও কয়েকটি মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। নিলয়সহ মাদকাসক্ত ১৫/২০ জন স্কুল পড়ুয়া কিশোর অপরাধী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।

থানার ওসি আরো বলেন, গত ১৩ মার্চ শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় আলমাস রেজা চৌধুরীসহ দুইজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে গত ১১ সেপ্টেম্বর শহরের শোলাকিয়া এলাকা থেকে নিলয়কে গ্রেফতার করা হয়।

পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে, গত ৯ এপ্রিল শহরের তেরিপট্টি বৌলাই উত্তর রাজকুন্তি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে ও ব্যবসায়ী রাজা হত্যায় নিলয় সরাসরি জড়িত। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে চাপাতি দিয়ে রাজাকে কোপাতে দেখা গেছে।

এছাড়াও গত ৩০ জুলাই বিকেলে কিশোরগঞ্জ থানার অদূরে ডিজি ল্যাবের সামনে কুপিয়ে আহত করা হয় জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডিজি ল্যাবের ম্যানেজার অনোয়ার হোসেন বাচ্চুকে। অন্য কয়েকজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওই হামলায় অংশ নেয় নিলয়। এ ছাড়াও গত ৯ সেপ্টেম্বর নীলগঞ্জ রোড এলাকায় নিলয়ের নেতৃত্বে রাস্তার দুইপাশে ৮/১০টি দোকান ভাঙচুর করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।

ওসি জানান, নিলয়কে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে একটি মামলায় গ্রেফতার করা হলেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত থাকায় একটি হত্যাসহ আরও তিনটি মামলায় এরেস্ট দেখানো হয়েছে। দুটি মামলায় তাকে ৭ দিন ও ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

 

 

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।