হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর খুন হলো স্কুলছাত্রী


Published: 2018-09-21 11:43:37 BdST, Updated: 2018-12-14 16:46:03 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: পেটে ব্যথার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মৈশামুড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রুমীকে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী বেডে চিকিৎসারত অন্য এক নারীর স্বামী শফি (২৬) নামের এক যুবক। ঘটনাটি ঘটে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে।

জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রুমীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলো রুমী। অবশেষে ১০ দিনপর সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার একটি খালের পাড় থেকে নিহত রুমীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের পর তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা শফিসহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ও সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার পুলিশ সূত্রে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

লাশ গুম করার জন্য সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার পাঠাকইন গ্রামের রাস্তার খালের পাশে ফেলে দেয়। স্থানীয় লোকজন লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার পর বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে রুমীর স্বজনরা তার ছবি নিয়ে বিশ্বনাথ থানায় গিয়ে রুমির লাশ সনাক্ত করে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিত্সার জন্য রুমীকে ভর্তি করা হয়। ঐ ওয়ার্ডে সোহাগপাড়া এলাকার শফিক মিয়ার শ্বাশুড়ী অসুস্থ হয়ে চিকিত্সার জন্য ভর্তি হন। শ্বাশুড়ীকে দেখা-শোনা করতে এসে শফিকের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রুমীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে রুমিকে শফি বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়। শফিক বিবাহিত হলেও তা গোপন রাখে। নানান কৌশলে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রতারক শফিক হাসপাতাল থেকে রুমীকে ভাগিয়ে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়।

পরে নিহতের ঘটনায় মির্জাপুর থানা পুলিশ ও সিলেটের বিশ্বনাথ থানার পুলিশ মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আব্দুল ওহাব উল্লার ছেলে শফিক মিয়া, তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপি, ওহাব উল্লার দুই পুত্রবধু দিপা ও লাভলী বেগমকে গ্রেফতার করেছেন।

 

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।