প্রিন্সিপালের কোদালের আঘাতে আহত ২ ছাত্রী


Published: 2019-12-28 23:38:55 BdST, Updated: 2020-04-09 16:26:12 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপালের কোদালের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে দুই শিক্ষার্থী। আহত ওই ২ শিক্ষার্থীকে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ফার্মেসির কর্তব্যরতরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। আহত শিক্ষার্থীদের সুনামগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার সকালে সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষায় তারা অকৃতকার্য হওয়ায় কোদাল দিয়ে আঘাত করেন প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, সদর উপজেলার সাখাইতি গ্রামের মৃত মহর উদ্দিনের মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাছলিমা খানম (১৯) এবং মাগুরা গ্রামের প্রবাসী মইনউদ্দিনের মেয়ে নাইমা বেগম (১৮)।

জানা গেছে, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজে টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় প্রায় ৬০ জনের মতো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। এতে ওই ৬০ জন শিক্ষার্থীকে প্রিন্সিপাল ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে জানালে শিক্ষার্থীরা প্রিন্সিপালের কাছে অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরুধ জানান। পরে প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মাঠে থাকা কোদাল ও শাবল দিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

আহত শিক্ষার্থী নাইমা বেগম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কলেজ থেকে টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়। সেই পরীক্ষায় আমাদের ভালো ফলাফল আসার কথা থাকলেও প্রিন্সিপাল আমাদের ফেল করিয়ে দিয়েছেন। এজন্য আমরা প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে খাতা দেখার জন্য অনুরোধ করলে এবং অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বললে স্যার মাঠে কাজ করা অবস্থায় শাবল ও কোদাল দিয়ে আমাকে ও আমার এক বান্ধবীর কোমরে এবং পায়ে আঘাত করেন। আমরা এর শাস্তি চাই।

মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাখেরা আক্তার বলেন, আমরা প্রিন্সিপাল স্যারকে টেস্ট পরীক্ষার অকৃতকার্যের বিষয়টি দেখার জন্য ও আমাদের খাতা দেখানোর অনুরোধ করলে তিনি আমাদের ওপর ক্ষেপে যান। এসময় তিনি মাঠে কাজ করা অবস্থায় ছিলেন। সেখানে রাখা শাবল ও কোদাল দিয়ে তাছলিমা ও নাইমাকে মারধর করেন। আমরা তার বিচার চাই।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কামরুল হাসান বলেন, নাইমার বাম পায়ের হাঁটুতে এবং ডান থাইয়ে রক্ত জমে গেছে এবং তাছলিমার ডান থাই একটু ফেটে গেছে। আমরা তাদের চিকিৎসা শুরু করেছি এবং তাদের ভর্তি রেখেছি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার প্রশ্নই আসে না। তারা এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষায় কেউ ৩টি বিষয়ে, কেউবা ৪টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। আমাদের বিধান রয়েছে ৩-৪ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করা হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।