শতবর্ষ উৎসব: ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ধান্দা!


Published: 2019-12-26 03:21:05 BdST, Updated: 2020-04-06 19:39:19 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূতভাবে দরপত্র আহ্বান এবং কার্যাদেশ দিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন রংপুরের কারমাইমাইকেল কলেজের প্রিন্সিপাল। বিশ্বব্যাপী সরকারি ছুটির দিনে (বড়দিন) দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বান করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ওই প্রিন্সিপাল। নানামুখী চাপে ছুটির দিনে আহ্বান এবং দাখিলকৃত ওই দরপত্র বাতিল করে ২৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার পুনরায় দরপত্র আহ্বান করেছেন তিনি।

ইতোমধ্যে ‘শতবর্ষ’ পালনের নামে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারী করে আসছেন ওই প্রিন্সিপাল এবং তার কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, আগামী ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব পালনের কথা রয়েছে। এজন্য নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে কলেজের শতবর্ষ উৎসব নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তি এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শতবর্ষ উৎসব ঘিরে তাদের মাঝেও শুরু হয়েছে উদ্দীপনা। কিন্তু আকস্মিকভাবে ২৯ এবং ৩০ ডিসেম্বর উৎসবের আয়োজন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক সাবেক শিক্ষার্থী। তাদের অনেকেই এতে অংশ নিতে পারবেন না। তবে ইতোমধ্যে ১৫০০ টাকা করে ফি দিয়ে ১৩ হাজার ৫০০ জন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। যার টাকার পরিমাণ ২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর তাদের জন্য খাবারের ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে মাথাপিছু ১২৫ টাকা।

জানা যায়, ২১ ডিসেম্বর ছিল খাবারের দরপত্র আহ্বানের দিন। এদিনে নির্দিষ্ট সময়ের ২০ মিনিট পরে রংপুরের জান্নাত হোটেল নামে একটি খাবারের প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। বিষয়টি নিয়ে জোরালো আপত্তি জানানো হলে কার্যাদেশ বাতিল করে ২৫ ডিসেম্বর (বড়দিন) সরকারি ছুটির দিনে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।

সাবেক ছাত্র-ছাত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিশ্বব্যাপী ছুটির দিনে কি করে দরপত্র আহ্বান করা হয়? তা সত্ত্বেও বুধবার ওই জান্নাতি হোটেলসহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী জামানত হিসেবে ব্যাংক ড্রাফট জমা দেয়ার বিধান থাকলেও জান্নাতি হোটেল ব্যাংক ড্রাফট জমা না দিয়ে নগদ টাকা জমা দিয়ে দরপত্র দাখিল করে। এতে আপত্তি জানান অন্যান্য দরদাতারা।

তা সত্ত্বেও চিনিগুঁড়া চালের দেড় প্লেট পোলাও, ৮০০ গ্রাম ওজনের এক পিস মুরগি, একটি মুরগির ডিম, একটি করে খাসির টিকিয়া, বুটের ডাল, সালাদ, চাটনি এবং ৫০০ মিলিমিটার পানি ও নেটের ব্যাগসহ প্রতি প্যাকেট খাবারের দর দেয়া হয়েছে ১১৯ টাকা।

বিক্ষুব্ধ সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রথমত বিশ্বব্যাপী সরকারি ছুটির দিন খুব জরুরি বিষয় ছাড়া কাজ কর্ম হতে পারে না। দ্বিতীয়ত ব্যাংক ড্রাফটের পরিবর্তে নগদ টাকায় দরপত্র গ্রহণ করা যায় না। তৃতীয়ত ১১৯ টাকা দরে কি করে দরপত্রের চাহিদা অনুযায়ী এসব খাবার সরবরাহ করবে তারা এবং করলেও সেই খাবার কতটা মানসম্মত হবে?


এ বিষয়ে কলেজের প্রিন্সিপাল ড. শেখ আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ্বব্যাপী ছুটির দিনে এবং ব্যাংক ড্রাফট ছাড়া দরপত্র গ্রহণ আমাদের ভুল হয়েছে। তাই তা বাতিল করে এবং গ্রহণকৃত নগদ টাকা এবং দাখিলকৃত দরপত্র সকলকে ফেরত দিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয়বারের মত আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।