এমসি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে


Published: 2019-04-05 22:04:20 BdST, Updated: 2019-05-23 11:27:18 BdST

রুম্মান আহমদ: দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্র সংসদে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এড়াতেই কলেজে বন্ধ করা হয়েছিল ছাত্র সংসদের কার্যক্রম।

ছাত্র সংসদ নিয়ে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন চিন্তা ভাবনায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে। ছাত্র সংসদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা একদিকে নিজেদের অধিকার আদায়ে সুবিধা করতে পারছে না।

অন্যদিকে আবার তরুণদের মধ্য থেকে গড়ে ওঠছে না সঠিক নেতৃত্ব। ছাত্র সংসদ না থাকায় শিক্ষার্থীদেরকে নানা সমস্যা কিংবা নিজেদের প্রয়োজনে ভরসা করতে হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর উপর। বেতন ও ফি সংক্রান্ত দাবিসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ব্যানারেই কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করতে হয় শিক্ষার্থীদেরকে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলনের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই দাবি দাওয়া উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন- ছাত্র সংসদ থাকলে নিজেদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায় সহজতর হতো।

শতবর্ষী এই কলেজে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৯১ সালে। সে নির্বাচনে ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগ মিলে ছাত্র ঐক্য গঠন করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের আসাদুজ্জামান চৌধুরী পিন্টু ও জিএস নির্বাচিত হন জাসদ ছাত্রলীগের ওমর আশরাফ ইমন।

বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের কোনো কার্যক্রম না থাকলেও প্রতিবছর ঠিকই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংসদ ফি আদায় করা হয়ে থাকে! আর প্রায় ১৪০০০ শিক্ষার্থীর কেউই জানেন না এই টাকা ছাত্রদের কল্যাণে কোন কাজে ব্যয় হচ্ছে। আর ছাত্রসংসদের নির্ধারিত ভবনটিও অনেকদিন থেকে বেদখল।

অন্যদিকে প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্রদের মধ্যে গড়ে ওঠছে না সঠিক নেতৃত্ব। অতীতে ছাত্র সংসদ কার্যকর থাকায় সেখান থেকেই স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ অকার্যকর থাকায় সেই ধারা এখন আর নেই। অনেকেই মনে করছেন, ছাত্র সংসদ না থাকায় বর্তমানে অছাত্ররাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব বগলদাবা করে বসে আছেন।

এমসি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে তালামিযে ইসলামীয়া কলেজ সভাপতি আফরুজ্জামান রুবেল বলেন, "ছাত্রসংসদ হলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের মৌলিক কাঠামো। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই অধিকারের পক্ষে আমাদের অবস্থান। আমরাও চাই প্রাণের ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক। এই লক্ষ্যে কলেজ প্রশাসনকে স্বারকলীপি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। আশা করি কলেজ প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নির্বাচনের আয়োজন করবেন।"

এ প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কলেজ শাখার আহবায়ক সাদিয়া তাসনিম নোশীন বলেন,"আমরা তো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি। ইতোপূর্বে এই দাবিতে অধ্যক্ষ মহোদয় বরাবর স্বারকলীপি দিয়েছি। কলেজ প্রশাসন যদি নির্বাচন দেয় তাহলে আমরা নির্বাচন করবো।

আমরা নির্বাচন করার জন্য সব সময় প্রস্তুত। প্রায় সব ছাত্র সংগঠনের অনেক পুরোনো দাবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার। সন্ত্রাস- দখলদারিত্ব মুক্ত শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ করতে কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার।"

একই প্রসঙ্গে এমসি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক বদরুল আজাদ রানা বলেন,"আমরা নির্বাচন চাই। কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামগ্রিক সমস্যা হচ্ছে, আর এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়া জরুরী বলে আমি মনে করি। তবে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন। ডাকসুর মতো পাতানো নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করবো না।

তাছাড়া ছাত্র সংসদ বন্ধ থাকার কারন হচ্ছে ছাত্রলীগের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা। তারা চায় না নির্বাচন হোক। ক্যাম্পাসে কোন সহাবস্থান নেই, কলেজ হোস্টেলও তাদের কল-কব্জায় জিম্মি। এ অবস্থায় নির্বাচন নয় সরকারি দলের নাটক মঞ্চায়ন হবে। সুতরাং, নির্বাচন বিষয়ে আমাদের কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেবো।"

ছাত্রসংসদ নির্বাচন বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল কার্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক ও কলেজ ছাত্রলীগ নেতা হুসাইন আহমদ বলেন,"ছাত্রলীগ দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। ছাত্রলীগ চায় কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক।

এজন্য ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতিটা সভায় ছাত্রলীগের প্রধান দাবি ছিলো ছাত্র সংসদ নির্বাচন। কিন্তু কলেজ প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে উদাসীন। কেন নির্বাচনে দীর্ঘসূত্রিতা সেটা কলেজ প্রশাসন নিজেই ভাল জানে। এ ব্যাপারে আমরা কলেজের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে আলাপ-আলোচনা করছি।"

ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ বলেন,"ছাত্র সংসদ না থাকায় ছাত্র রাজনীতির ক্ষতি হচ্ছে এটা আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি। ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে কলেজে অন্য রকম একটা মনোভাব আসবে। একক কোন সংগঠনের নেতৃত্ব থাকবে না। সব দিক থেকে মতামত আসবে।"

কলেজ প্রশাসন কেন নির্বাচন দিচ্ছে না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,"কলেজ প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সব সময় আন্তরিক। কিন্তু, যাদের নিয়ে নির্বাচন হবে সেই ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে কোন প্রকার আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তারা চাইলে অবশ্যই নির্বাচন হবে।"

 

ঢাকা, ০৫ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।