কুবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর: নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদাবাজি!


Published: 2017-11-09 20:44:21 BdST, Updated: 2017-11-19 05:35:00 BdST

 

কুবি লাইভ: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নানান কিছু ঘটছে। কখন কাকে ফাঁসানে হয় এটা কেউ জানে না। এবারও সেই পুরানো অভিযোগ। শিবির সন্দেহে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে মোবাইল ফোন জিম্মায় রেখে শাখা ছাত্রলীগের দুইজন নেতা চাঁদাবাজি দাবী করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এনিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে নানান গুঞ্জন। আলোচনা আর সমালোচনা চলছে হলে হলে। ক্লাসে ক্লাসে। জানাগেছে গত মঙ্গলবার মোবাইল ফেরত দিয়ে টাকা আদায় করার ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি বুধবার রাতে সাংবাদিকদের নজরে আসে।

জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে শিবির করার অভিযোগেআনে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হাসান সাদী ও গোলাম দস্তগীর ফরহাদ এবং ছাত্রলীগ কর্মী হাসান বিদ্যুত ও রাফিউল আলম দীপ্তসহ কয়েকজন নেতাকর্মী।


অন্যদিকে ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাকেও নানান অভিযোগে মারধর করা হয় বলে জানা যায়।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ওই শিক্ষার্থীর বন্ধুর কাছে রাখা মোবাইল ফোনটি ঘটনার দিন কেড়ে নেন গোলাম দস্তগীর ফরহাদ, সাইফুল হাসান সাদী। তারা দুইজনই শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

পরে সেই বন্ধুর মাধ্যমে ঐ শিক্ষার্থীর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতারা। টাকা না দিলে তাকে ক্যাম্পাসে আসতে দেওয়া হবে না এমন হুমকিও প্রদান করা হয়।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দুইজন ব্যক্তির মাধ্যমে গত মঙ্গলবার ৪ হাজার টাকা গোলাম দস্তগীর ফরহাদকে দিলে মোবাইল ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়। এ সময় সাইফুল হাসান সাদীও ফরহাদের সাথে ছিলেন বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কাজী নজরুল ইসলাম হলের একাধিক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের অনুসারী। মোবাইল আটকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি ভুক্তভূগী ওই শিক্ষার্থী বুধবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন।

তবে চাঁদা আদায় করার বিষয়টি অস্বীকার করেন শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম দস্তগীর ফরহাদ এবং সাইফুল হাসান সাদী। তারা জানান এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ ক্যাম্পাসলাইভকে
বলেন, ‘এ রকম কিছুই আমার জানা নেই। এ রকম হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ এ বিষয়ে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘চাঁদা আদায়ের বিষয়টি আমি অবগত নই। যদি এটা করে থাকে তাহলে তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি মো: সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘যদি তারা চাঁদা আদায় করে থাকেন তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ঢাকা, ০৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।