নোবিপ্রবি থমথমে, ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন


Published: 2017-11-07 01:44:28 BdST, Updated: 2017-11-24 06:16:00 BdST

নোয়াখালী লাইভ : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি কাটছে না। ক্যাম্পাস ও এর আশপাশ এলাকায় এখনও আতংকিত পরিবেশ বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার রাতে নোবিপ্রবিতে এলাকাবাসীর হামলার পর থেকেই ক্যাম্পাসে আতংকিত পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে ওই ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।

এদিকে রোববারের হামলার পর সোমবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে বহিরাগতরা। সোমবার সকালে বাহিরের দোকানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র নাস্তা করতে গেলে কতিপয় এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন তিনি। এনিয়ে ফের ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ছাত্র ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোষ্ট ড. গাজী মোহাম্মদ মহসিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভুত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আহতদের বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে সঠিক তদন্ত করে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুধারাম থানা ওসি (তদন্ত) সাইদ চৌধুরী জানান, ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য ৪টি স্থানে বেশ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা নামতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয় আতংক। অস্ত্র নিয়ে কতিপয় এলাকাবাসী ক্যাম্পাসে অতর্কিতে হামলা চালায়। এসময় তারা হলে ঢুকে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিক্ষিপ্তভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা বেশিক্ষণ টেকেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেও হামলা চালিয়ে শিক্ষকসহ ছাত্রীদের আহত করা হয়েছে।

নোবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর মাসুম মিয়া জানান, দুই দিন আগে এলাকার এক সরকারদলীয় নেতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়।
এরই জের ধরে রোববার (৫ নভেম্বর) রুমেল, তুষার, সঞ্জুসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নোবিপ্রবি ১১তম ব্যাচের সিএসটিই বিভাগের শিক্ষার্থী আরফান মারাত্নক ভাবে আহত হন। আহত হন ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষকও। গুরুতর আহত আরফানকে নোয়াখালী সরকারি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়ছে।

এ ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এতে হামলাকারীরা স্থান ত্যাগ করে। পরে তারা আবার সংগঠিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রমি ও চয়ন আহত হন।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর তুষার নামের এক বহিরাগত কয়েকজন ভর্তিচ্ছু পরিক্ষার্থীদের র‍্যাগ দিলে এরফানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করেন। এর জের ধরে রোববার রুমেল ও তুষারের নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় আরফানকে পিটিয়ে আহত করে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদ করতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারাণ ছাত্রদের পক্ষ থেকে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এনিয়ে রোববার বিকেলে এলাকাবসী উত্তেজিত হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসে হামলা চালালে শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সন্ধ্যায় এনিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, ১১তম ব্যাচের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, শিক্ষার্থী, আরফান ও রাহীসহ অন্তত ১০জন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


ঢাকা, ০৭ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।