নোবিপ্রবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাংচুর ছাত্রীসহ আহত ১০


Published: 2017-11-05 22:00:27 BdST, Updated: 2017-11-24 06:16:28 BdST

নোবিপ্রবি লাইভ : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ছাত্রদের সঙ্গে বহিরাগতদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার রাতে ওই সংঘর্ষে দুই ছাত্রী ও এক শিক্ষকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে বিশ্ববিদ্যায়ের গাড়ী ভাংচুর করে ও বিভিন্ন হলে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নোবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর মাসুম মিয়া জানান, দুই দিন আগে এলাকার এক সরকারদলীয় নেতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়।
এরই জের ধরে রোববার (৫ নভেম্বর) রুমেল, তুষার, সঞ্জুসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নোবিপ্রবি ১১তম ব্যাচের সিএসটিই বিভাগের শিক্ষার্থী আরফান মারাত্নক ভাবে আহত হন। আহত হন ফার্মেসি বিভাগের প্রধানও। গুরুতর আহত আরফানকে নোয়াখালী সরকারি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়ছে।

এ ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এতে হামলাকারীরা স্থান ত্যাগ করে। পরে তারা আবার সংগঠিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রমি ও চয়ন আহত হন।

এদিকে হামলাকারিরা আরো লোকবল নিয়ে সোনাপুর-বিশ্ববিদ্যালয়গামী সড়কের জেড নামক স্থানে অবস্থান নেয়। সেখানের অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীদের কয়েকটি মেসেও হামালা চালায়।

এদিকে হামলাকারীর বিশ্ববিদ্যালয় বাসগুলো ক্যাম্পাসে যেতে বাধা দেন। এতে বিপকে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষ্যদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালরে পাশের জেড মোড় ও সুবর্ণ এগ্রো এর মাঝামাঝি স্থানে স্থানীয়রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাসের কাঁচ ভেঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের গায়ে পড়ে এবং কয়েকজন আহত হন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মুশফিকুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা তাতক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। বর্তমানে অবস্থা মোটামুটি শান্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, পুলিশের সামনেই শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এ ব্যাপারে সুধারাম থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে কল করা হলে তিনি রিসিভ করে ফোন কেটে দেন। এরপর কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর তুষার নামের এক বহিরাগত কয়েকজন ভর্তিচ্ছু পরিক্ষার্থীদের র‍্যাগ দিলে এরফানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করেন। এর জের ধরে রোববার রুমেল ও তুষারের নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় আরফানকে পিটিয়ে আহত করে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদ করতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারাণ ছাত্রদের পক্ষ থেকে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এনিয়ে রোববার বিকেলে এলাকাবসী উত্তেজিত হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসে হামলা চালালে শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সন্ধ্যায় এনিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, ১১তম ব্যাচের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, শিক্ষার্থী, আরফান ও রাহীসহ অন্তত ১০জন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


ঢাকা, ০৫ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।