শুভ জন্মদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


Published: 2020-11-18 12:31:52 BdST, Updated: 2020-12-02 05:46:31 BdST

আহমেদ জুনাইদ, চবিঃ ২১০০ একরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি, শাটলের স্পন্দন আর হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীর পদচারণায় সদা প্রাণোচ্ছল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ তম জন্মদিন আজ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়কে বর্ণিল সাজে সাজানোর পাশাপাশি দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষাঙ্গনে আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে জড়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা অর্জনের পূর্ব থেকেই সকল প্রগতিশীল ও গনতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।বিশেষ করে ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সরব অবস্থান ছিলো।

প্রতিদিন সকালে শাটলের হুইসেলের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান ভিসির দ্বায়িত্ব পালন করছেন সদ্য বেগম রোকেয়া পদকের জন্য মনোনীত প্রফেসর ড. শিরিন আখতার। বর্তমানে ৯২০ জন শিক্ষকের তত্বাবধানে অধ্যয়নরত আছেন ২৩৫৫৪ জন শিক্ষার্থী। চারটি বিভাগ থেকে গড়ে উঠা বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভাগসংখ্যা বর্তমানে ৪৮ টি।এছাড়া বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২৫ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত আছে। ছেলেদের জন্য ৮ টি ও মেয়েদের জন্য ৪ টি হল নিয়ে মোট হল রয়েছে ১২ টি, রয়েছে একটি হোস্টেল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার পাশাপাশি বিএনসিসি, বিতর্ক,সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধুলায় রেখে চলছে অনন্য দৃষ্টান্ত।এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ ও অধ্যাপনা করেছেন। যার মধ্যে রয়েছেন একজন নোবেলবিজয়ী এবং একাধিক একুশে পদকবিজয়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মহারথীরা আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশকে চিত্রিত করছেন।

বহুমুখি জ্ঞানচর্চার জন্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বৃহৎ এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, জাদুঘর, ঝুলন্ত ব্রিজ, জয় বাংলা চত্ত্বর, শহিদ মিনারসহ নানা শিক্ষাসহায়ক ও ঐতিহাসিক স্হাপনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এ বিশ্ববিদ্যালয় কে বলা হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি। প্রকৃতিমাতার নিজ হাতে গড়া এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে রয়েছে ছোটবড় পাহাড়, আঁকাবাকা পথ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং বন্যপ্রাণী। ফরেস্ট্রি, কাটাপাহাড় রোড বা পাহাড়ের কোলে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে লালচে বাদামী পিঙ্গল রঙা মায়া হরিণের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের পেছনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণা, এ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে চালন্দা গিরিপথ, টেলিটক পাহাড়সহ নানা মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্হান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান ব্যারিস্টার মোকাররম হোসেন বলেন, চবি আমার আবেগ। এখনো মিস করি ঝুপড়ির বেসুরো গলার চিৎকার, শাটলের গান, কাটা পাহাড়ের টান। এ মায়া ভুলে যাওয়ার নয়।জন্মদিনে এটাই চাই যেনো ভালো থাকে চবি।

ঢাকা, ১৮ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।