মেধাবী ছাত্রী তোহাকে নিপীড়নের গল্পটা অজানাই থেকে গেল!


Published: 2020-04-05 12:36:43 BdST, Updated: 2020-05-28 10:02:11 BdST

ব্রাহ্মণবাড়িয়া লাইভ : মেধাবী কলেজ ছাত্রী তানজিনা আক্তার তোহা। একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় এলাকার প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভাগ্নের চোখে পড়েন তিনি। দেয়া হয় প্রেমের প্রস্তাব। রাজি না হওয়ায় শুরু হয় নিপীড়ন। পথে-ঘাটে সম্ভ্রম কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এ থেকে রক্ষার কোন উপায়ও নেই তোহার। কারণে বখাটে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভাগ্নে। মুখ খুললে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছাড় পাবে না। তাই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। তবে তার ওই চলে যাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বখাটের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় এনিয়ে মুখ খুলছে না তোহার পরিবারের সদস্যরা। তবে তার বোন দাবি করেছেন তোহাকে নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। অথবা বখাটের নিপীড়ন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

জানা গেছে, শুক্রবার আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রাম উত্তরপাড়া স্টিল ব্রিজ এলাকায় বসত বাড়িতে শয়নকক্ষ থেকে মেধাবী ছাত্রী তোহার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। তবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত নয় পুলিশ।

তানজিনা আক্তার তোহার বড় বোন পপি আক্তার দাবি করছেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তোহা একটি কলেজের একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। আখাউড়ার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভাগ্নে রানার প্রতিনিয়ত উত্যক্তের শিকার হয়েছেন কলেজ ছাত্রী তোহা। সেই অবস্থা থেকে নিস্কৃতি পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে তার বোন। অথবা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ অবস্থায় তোহার মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, রানা নামে ওই যুবক তার বখাটে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি দিনের বেলায় তোহাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে রক্তাক্ত জখমসহ লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মেয়েটি উদ্ধার করে আখাউড়া থানায় নিয়ে যায়। সেসময় থানায় রানার নির্যাতনের বর্ননা দেন কলেজ ছাত্রী তোহা ও তার বান্ধবী। রানার পরিবারের কাছে একাধিকবার নালিশ দেয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তোহা। শেষবার ওই প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির কাছে নালিশ নিয়ে যাওয়ার পর রানার বড় ভাই তোহার পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় তোহার মা থানায় অভিযোগও দিতে পারেননি প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকিতে।

তানজিনা আক্তার তোহার বড় বোন পপি আক্তার জানান, কয়েকদিন ধরে তোহার সঙ্গে বাসায় পৌরশহরের তারাগন গ্রামের তার এক বান্ধবী রাতে থাকেন। ঘটনার রাতেও দু’জন একসঙ্গে রুমে ছিলেন। ওই বান্ধবীর বরাত দিয়ে পপি বলেন, রাত প্রায় দেড়টার দিকে তোহা ঘরের বাইরে যান। পরে কী ঘটেছে তা সে জানে না বলে পপি জানায়।

তানজিনা আক্তার তোহার মা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ঘুম ভেঙ্গে দেখতে পান তার মেয়ে তোহার রুমে আলো জ্বালানো এবং দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে দেখতে পায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে তোহা। এসময় ফাঁস থেকে নামিয়ে লাশ মেঝেতে রাখা হয়। তবে একাধিক প্রতিবেশী জানান, তোহার মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক। স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভয়ে তোহার পরিবার মৃত্যুর আসল কারণ লুকানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব বলে মনে করেন প্রতিবেশীরা।

আখাউড়া থানার ওসি রাসুল আহামদ নিজামী বলেন, মৃত্যুর বিষয়ে তোহার মা মুখ খুলছেনা।ওই মহিলা মামলা দিতেও রাজি নন। তিনি আমাদেরকে বলছেন মেয়ে অত্মহত্যা করেছে, এটা সেটা। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ঘরের দরজা ভাঙ্গা দেখতে পেয়েছি। গলায় দাগ আছে। তোহার মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিং করে দেখা হচ্ছে। কি হয়েছে সেই সত্য বের করতে আমরা তদন্ত করছি।

ঢাকা, ০৫ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।