চবি ছাত্রলীগ: তিন গ্রুপের তিন নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য


Published: 2020-03-05 12:16:49 BdST, Updated: 2020-04-01 15:03:39 BdST

চবি লাইভঃ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগের ৩ গ্রুপের তিন নেতার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য নিয়ে নানান ধুম্রজাল শুরু হয়েছে। কেউ কাউকে মানতে নারাজ। কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দিতে চাইছেন না। ফলে সকাল থেকেই চাপা উত্তেজনা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে গোটা ক্যাম্পাসে। পুলিশ থাকলেও তাদের সামনে দিয়েই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।রা অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করছে। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে সিক্সটি নাইনের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিজয়ের নেতা মো. ইলিয়াছ হিযবুত তাহরীরের সদস্য। ইলিয়াছ ও বিজয়ের আরেক নেতা জাহেদুল আউয়ালের নির্দেশেই আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর বারবার হামলা করা হচ্ছে। আর এতে ইন্ধন দিচ্ছে এক সহকারী প্রক্টর। তাই সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ ও বিজয়ের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। নয়তো আমরা আন্দোলনে যাব।’ আমরা এর বিরুদ্ধে যা করা দরকার তাই করবো।

এদিকে এসব কথার পল্টা জবাব দিয়েছেন বিজয়ের নেতা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ। তিনি বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই তাঁদের এক কর্মীকে সিক্সটি নাইন ও কনকর্ডের নেতা-কর্মীরা মারধর করেন।

আমরা সব সময় ধৈর্য্য ধরে আসছিলাম। কিন্ন্তু তারা বারই আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন করে আসছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর ইকবাল হোসেনের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। কারণ তাঁর নির্দেশেই এসব সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। তাই ইকবালকে এ পদ থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে কনকর্ডের নেতা ও সাবেক সহসভাপতি আবদুল মালেক বলেন, বিজয়ের নেতা-কর্মীরা রাতের আঁধারে হলে ঢুকে তাঁদের কর্মীদের মারধর করেছেন। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। বিজয়ের নেতাদের নামে বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে।

রাত থেকেই বিজয়ের নেতা-কর্মীরা হল দখলের চেষ্ঠা করছে। তারা দলে দলে বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। কিভাবে হল উদ্ধার করা যায় এমনকি নেতাকর্মীদের হলে তোলা য্য় সে বিষয়েও চেষ্টা করছে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের নেপথ্যে
আলাওল হলের ২৩৮ নম্বর কক্ষে বিজয়ের কর্মী মো. আবদুল্লাহ ও কনকর্ডের কর্মী আরমান হোসেন বসবাস করেন। এ দু’জনের মধ্যে কয়েক দিন ধরে ঝগড়া হচ্ছিল। পরে আবদুল্লাহ বিজয়ের আরেক কর্মী মো. আবিরকে নিয়ে গত সোমবার আরমানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে আরমান সিক্সটি নাইনের নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে আবিরকে মারধর করেন। এর থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

এ ঘটনার রেশ ধরে বুধবার বিকেলে সিক্সটি নাইনের এক কর্মীকে মারধর করেন বিজয়ের নেতা-কর্মীরা। ঘটনা জানাজানি হলে সন্ধ্যায় আবারও সংঘর্ষে জড়ায় সিক্সটি নাইন ও বিজয়। রামদা, লোহার রড, কাচের বোতল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে অবস্থান নেন বিজয়ের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেয় সিক্সটি নাইন।

এ সময় উভয়ই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ এসে উভয়কে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পাশাপাশি চারজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ইটপাটকেলে আঘাতে ও পুলিশের ধাওয়ায় তিন উপপক্ষের পাঁচ কর্মী আহত হন।

তাঁদের মধ্যে চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, দুটি গ্রুপকে বারবার শান্ত থাকতে বলা হলেও সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে অনেকেই আহত হয়েছে। পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি আমরা।

ঢাকা, ০৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।