মুজিববর্ষ: চবিতে গাছ রোপণ করবে বন ও পরিবেশবিদ্যা ইন্সটিটিউট


Published: 2020-01-12 01:42:13 BdST, Updated: 2020-08-14 10:19:34 BdST

চবি লাইভঃ মুজিববর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইন্সটিটিউট আ্যলামনাই এসোসিয়েশন কয়েক হাজার গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বনবিদ্যা ইনিস্টিটিউট প্রাঙ্গণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহাম্মদ বেলাল। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান।

এসময় তথ্য মন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেন,আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। তাই এখান থেকে যখনই ডাক পাই তখনই চলে আসার চেষ্টা করি।এখানে আমার জীবনের সেরা স্মৃতিগুলো ছিল। তখনকার তুলনায় এখনকার ক্যাম্পাস অনেক বেশি চাকচিক্যময়। আমাদের সময়ে এতো গাছ ছিলোনা। আমরা তখন আন্দোলন করেছিলাম পাহাড়ে গাছ লাগানোর জন্য।

তিনি আরো বলেন,বিশ্বের কাছে সবচেয়ে বড় বিষ্ময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দিন দিন মানুষ বাড়ছে। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিয়াল উন্নয়ন আরো বেশি হচ্ছে।এর প্রধান কারণ হচ্ছে এ দেশের মাটি উর্বর। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে উর্বর জমির পর্যাপ্ত ব্যাবহার করে জলবায়ুর বিপর্যয় থেকে এ দেশকে রক্ষা করা।

তিনি বলেন,মানুষের মধ্যে একটি চেতনা জাগ্রত হয়েছে গাছ লাগানোর।আপনারা মুজিববর্ষে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তাই ধন্যবাদ।আমি আরেকটা প্রস্তাব রাখছি।বেলজিয়ামে প্রতি সন্তান জন্ম লাভের পর একটি করে গাছ লাগানো হয়। আমার অনুরোধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যত নব জাতকের জন্ম হবে প্রত্যেকের নামে একটি গাছ লাগানো হবে।দেখবেন এই ক্যাম্পাসের সতেজতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন,পৃথিবীতে ৮.৭ মিলিয়ন স্পেস আছে।মানুষের কর্মকান্ডে প্রতিদিন ১৫০ স্পেস বিলুপ্ত হয়ে আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতির সম্ভাবনায় বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।

এ ব্যাপারে শিক্ষিত সমাজকে সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে।কিন্তু আমি অবাক হই এই শিক্ষিত সমাজের দ্বারা যখন পরিবেশ নষ্ট হয়। কিছুদিন আগে দেখেছি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো একটি প্রতিষ্ঠান যেভাবে পাহাড় কেটে রাস্তা করেছে যা কখনো কাম্য নয়।

উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিন আক্তার বলেন,শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও আমাদের ক্যাম্পাস ঐতিহ্যবাহী শুধু আমাদের সবুজ শ্যামল গাছপালার কারণে। আমি অত্যান্ত আনন্দিত যে ইফসকু এই সবুজ কে আরো বাড়িয়ে নিতে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

আমরা আমাদের ক্যাম্প্যাসে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন করবো তবে তা ক্যাম্পাসের সজিবতাকে অক্ষুণ্ণ রেখে।তার জন্য আমরা বড় বড় স্থপতিদের সাথে বসেছি। দরকার হলে বিদেশ থেকে স্থপতি আনবো। তবে প্রকৃতি নষ্ট করে কিছু করবো না।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য একটি বিশাল প্রজেক্ট নেওয়ার জন্য দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে বসার ঘোষণা দেন তিনি।

সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি রক্ষা মিশনে ১ নম্বর দেশ। বিভিন্ন দুর্যোগে সবার আগে ছুটে আসে সেনাবাহিনী। শিক্ষা ক্ষেত্রেও এই বাহিনী অনন্য অবদান রেখে চলেছে। সেনাবাহিনী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও সম্পৃক্ত।

এ সময় তিনি ইনিস্টিটিউটের উদ্যোগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহীত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেন। একই সাথে নিজেদের নার্সারি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ২ হাজার গাছের চারা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রফেসর গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, মোহাম্মদ মহিউদ্দীনসহ অনেকে। তাছাড়া পুনর্মিলনীতে আসা নবীন ও প্রবীণরা আনন্দে মেতে উঠেন। অনেককে তাদের বাচ্চা,পরিবার নিয়ে খোশগল্প করতে দেখা যায়।

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।