চবিতে ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি


Published: 2019-12-09 01:06:24 BdST, Updated: 2020-08-14 02:23:56 BdST

চবি লাইভঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চলমান পরিস্থিতি কে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে আছে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ। এ নিয়ে আজকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক পক্ষ মৌন মিছিল এবং অন্য পক্ষ ভিসি বরাবর স্বারকলীপি জমা দিয়েছে।

মৌনমিছিল করা পক্ষ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী এবং স্বারকলীপি দেওয়া অন্যপক্ষ সিটি মেয়র আজম নাসিরের অনুসারী।

আজ দুপুর ১টা ৩০মিনিটে ছাত্রলীগকর্মী তাপস হত্যার বিচারের দাবিতে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী ছাত্রলীগের একাংশ।

দুপুরে মৌন মিছিলটি শাহ আমানত হল থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট শহীদ মিনার হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, 'অনেক আশা করে তাপস এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু এখান থেকে তাকে লাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত তাপসের মত ১৭ জন খুন হয়েছে। যার একটিও বিচার হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে খুনের ধারা অব্যহত থাকবে। প্রশাসনের নিরব ভূমিকাই এর জন্য দায়ী। আমরা দ্রুত এর বিচার চাই।'

এসময় বক্তারা আরো বলেন বুয়েটের আবরার হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তাপস হত্যার জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এ হত্যার জন্য শাখা ছাত্রলীগের অপর পক্ষ ভিএক্সের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর বিপুল ও ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দূর্জয়কে দায়ী করে তাদের গ্রেপ্তার ও এ হত্যার সাথে জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর বিচার চান।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে চার দফা দাবিতে ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রলীগের অপরপক্ষ।

স্মারকলিপিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু ও সাবেক কমিটির মনসুর আলম, আবু তোরাব পরশ, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান বিপুল, রকিবুল হাসান দিনার, প্রদীপ চক্রবর্তী দূর্জয়, ইমাম উদ্দিন ফয়সাল ফারভেজ, মো. ফয়সাল।

দাবিসমূহ হলো- ১. শহীদ আব্দর রব হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিতভাবে হামলার নেতৃত্ব দানকারী সুমন নাসির ও আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান খাঁন রাফিসহ জড়িত সকলের গ্রেপ্তার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার।

২. পুলিশ ও প্রক্টরের গাড়ি এবং জিরো পয়েন্টে অবস্থিত ওয়াচ-টাওয়ার ভাঙচুরকারীদের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে জড়িয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অপ-প্রচারকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান।

এবং ৪. বাহিরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার জন্য সিনিয়র নেতাবৃন্দের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

উল্লেখ্য একাংশের দাবিতে অভিযুক্ত সুমন নাসির ও আল নাহিয়ান খান রাফিকে গত ২ডিসেম্বর রাতে নগরীর এগারো মাইল এলাকায় কুপিয়ে জখম করা হয়।

তারপর থেকেই ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আছে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ সিএফসি ও ভিএক্স। নাহিয়ান রাফি ও সুমন নাসির সিএফসি গ্রুপের নেতা ছিলেন।

ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।