চবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম: অবরোধের ডাক


Published: 2019-12-01 23:55:36 BdST, Updated: 2019-12-06 06:37:14 BdST

চবি লাইভঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে কোপানোর জন্য ভিএক্স গ্রুপের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল ও প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়কে দায়ী করে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার, স্থায়ী বহিষ্কার এবং ছাত্র উপদেষ্টা সিরাজুদ্দৌলার পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে তাপস স্মৃতি সংসদ নামে একটি সংগঠন।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে হাটহাজারীর এগারোমাইল এলাকায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।এর কিছুক্ষণ পরই আহত পক্ষের গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধের ডাক দেয়।

আহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন সুমন এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী আল নাহিয়ান রাফি।

এরপর দুই গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড় হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে থাকা পুলিশের ৫টি এবং প্রক্টরিয়াল বডির একটি গাড়ি ভাংচুর করে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।তবে কোন পক্ষ করেছে তা এখনো জানা যায় নি। এসময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও দুই-তিন রাউন্ড টেয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনার কারণে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিবাদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে অবরোধ ডাকা গ্রুপ হলো উপ- গ্রুপ সিএফসি'র নেতা এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। অন্যটি উপ-গ্রুপ ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) এবং সিটি মেয়র আজম নাসির উদ্দিনের অনুসারী।

এ বিষয়ে তাপস স্মৃতি সংসদের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা সিরাজ উদ দ্দৌল্লাহ'র মদদে তাপস হত্যা মামলার আসামি মিজানুর রহমান বিপুলসহ বেশ কয়েকজন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণদিত ভাবে ছাত্রলীগ নেতা নাসিরউদ্দিন সুমন এবং আল নাহিয়ান রাফির উপর হামলা করে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার এবং ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর সিরাজ উদদ্দৌলাহ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেন, ঘটনাটা গত দুই-তিনদিন ধরে চলমান। গতদিন আব্দুর রব হলে রেজাউল হক রুবেল (শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি) ভাইয়ের সামনেই আমাদের কর্মীদের মারধর করে তার অনুসারীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তার উচিত ছিলো কার অনুসারী তা না দেখে মারধরকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি তা না করায় জুনিয়র কর্মীদের ভিতরে একটা ক্ষোভ দেখা দেয়। সেই ক্ষোভ থেকেই নাসিরউদ্দিন সুমন এবং আল নাহিয়ান রাফিকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা (উত্তর) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা জলকামান এবং দুই-তিন রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ি। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা, ০১ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।