রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি: চবির শিক্ষকের অপসারণ দাবী


Published: 2019-09-25 16:42:19 BdST, Updated: 2019-10-21 16:41:25 BdST

চবি লাইভঃ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি ও ব্যঙ্গাত্বকভাবে প্রচারের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবী জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। বুধবার সকালে এসব অভিযোগ জানিয়ে চবি ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তিনি।

অভিযোগকারী শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ইফতেখার উদ্দিন আয়াজ। তার অভিযোগ পত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. রাহমান নাসির উদ্দিনকে চবি ও গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক পদ থেকে এবং সমাজতত্ত্ব বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ড. হানিফ মিয়াকে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, যদি কোনো শিক্ষক মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরকে নিয়ে হাস্যরস ও ব্যাঙ্গাত্বক, কুরুপূর্ণ মন্তব্য করে জনসম্মুখে প্রচারণা চালিয়ে থাকেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গাত্বকভাবে ফেসবুকে নিয়মিত প্রচারণা চালান, জননেত্রীর সিদ্ধান্তকে যদি কেউ বেহায়া ভোটের পলিটিক্স হিসেবে উপস্থাপন করেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম ভিত্তি জননেতা ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে যদি ব্যাঙ্গত্বক প্রচারণা চালান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র গড়ার একমাত্র দাবিদার সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকেও পোল্ট্রি ফার্ম উল্লেখ করে ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর ধৃষ্ঠতা প্রদর্শন করেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অশ্রাব্য ভাষায়, নোংরাভাবে উপস্থাপনকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে তাঁর পক্ষে আন্দোলনে নেমে সরকার বিরোধী অপতৎপরতায় প্রত্যক্ষ নের্তৃত্ব প্রদান করেন, তাহলে তিনি কি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পেতে পারেন?

নিশ্চয়ই আপনার কাছে তথ্য গোপন করে সম্প্রতি আওয়ামী-বিরোধী ড. রাহমান নাসির উদ্দিনকে চবি ও গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দফতর এর পরিচালক পদে এবং ড. হানিফ মিয়াকে সহকারী প্রক্টর পদে আসীন করা হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে তিনি আরো উল্লেখ করেন, চবি সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক জনাব মাইদুল ইসলাম স্যার কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে জামায়াত-বিএনপির সরকার পতন করার এজেন্ডার অংশ হিসেবে উস্কানি এবং ফেসবুকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, নোংরা ভাষায় পোস্ট দিয়েছিলেন।

জননেত্রীর কর্মীরা ২০১৮ সালের জুলাই মাসের সেই ষড়যন্ত্র, নীলনকশার ভয়ংকর আন্দোলনের কথা ভুলেনি। আপনারও নিশ্চয় ওই সময়ে সরকার বিরোধীদের জননেত্রীকে বেকায়দায় ফেলার সকল তথ্য জানা আছে। জননেত্রীর সরকারের পতন ঘটাতে সেদিন গুজব, উস্কানি দিয়ে দেশকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়ে জননেত্রীকে চরমভাবে কষ্ট দিয়েছিল এই ষড়যন্ত্রকারীরা।

একটু চোখ বন্ধ করে সেই ষড়যন্ত্রের কথা মনে করলে গা শিউরে উঠে। একপর্যায়ে, জননেত্রী মহান সংসদে কোটা প্রথা বাতিলের ঘোষণা দেন। এতেও ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়নকারীরা থামেনি। তারা দেশকে চরমভাবে অস্থিতিশীল করে জননেত্রীর সরকার পতন ঘটানোর দিকে আগায়। কিন্তু জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যার বিচক্ষণতা দেশকে এই সংকট থেকে উদ্ধার করে।

২০১৮ সালে যে শিক্ষকরা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা হিসেবে আওয়ামী বিরোধী কর্মসূচিতে সরাসরি নেমেছিলেন, তারা ২০১৯ সালে এসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অধিকার কি করে রাখেন? তাদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান করে খ্যাতিমান করে তোলা কি জননেত্রীর সঙ্গে প্রতারণা নয়?

ভাবতেই অবাক লাগে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় যখন দেখি, আওয়ামীলীগ সরকারের শেষ সময়ে এসে যারা সরকার বিরোধী ছিলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের শুরুতে তারাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের সুবিধাভোগী! জননেত্রীর কর্মী হিসেবে কি করে এসব মেনে নিই?

তাই,মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মান্যবর চ্যান্সেলর জবাব আব্দুল হামিদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করে ব্যঙ্গাত্বকভাবে প্রচারণাকারী এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তিকারীর পক্ষে আন্দোলনে নেমে আওয়ামী লীগ সরকার।

পতনের নীলনকশার বাস্তবায়নকারী ড. রাহমান নাসির উদ্দিনকে চবি ‘গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দফতর’ এর পরিচালক পদ থেকে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলার আসামী চবি সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মাইদুল ইসলামের পক্ষে সরকার বিরোধী আন্দোলনের নেতা ড. হানিফ মিয়াকে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অপসারণের দাবিতে অনশন করেছি।

নিশ্চয়ই, বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল ও সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়ার আগে ওই দুই শিক্ষকের রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে ধারণা নেয়ার সুযোগের পথ আওয়ামী-বিরোধী কোন সিন্ডিকেট আপনার সামনে বন্ধ করে দিয়েছে। হয়ত, সরকারের নিকট আপনাকে আওয়ামী-বিরোধী হিসেবে উপস্থান করতে তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আপনাকে ভুলভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যেই তাদের রাজনৈতিক চরিত্র গোপন করে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদের শেষ সময়ে এসে সরকার পতন আন্দোলনের নীলনকশার বাস্তবায়নকারী এবং জননেত্রীকে অসম্মানকারীর পক্ষ নেওয়া এই দুই শিক্ষকের হাতে জননেত্রীর সরকারের সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপদ নয়। জননেত্রীর সরকারের সময় তাদের প্রশাসনিক দায়িত্বপালনেরও কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

এও শোনা যাচ্ছে, ড. রাহমান নাসির উদ্দিন স্যার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের সুপারিশে মহামান্য রাষ্টপ্রতি ও চ্যান্সেলর মনোনীত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হতে যাচ্ছেন। ওনার মত আওয়ামী-বিরোধী একজন শিক্ষককে যদি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য করার জন্য প্রশাসন সুপারিশ করে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলের এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর কি-বা হতে পারে!

এমতাবস্থায়, উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত, ফেসবুক স্ক্রিনশট, লিংক ও পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও ছবির যথার্থতা অনুযায়ী ড. রাহমান নাসির উদ্দিন স্যার ও ড. হানিফ মিয়া স্যারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করার জন্য আপনার নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

অভিযোগ পত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বিবদ্যালয় ভিসি (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. শিরীণ আক্তারের সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তাঁর পিএস রিসিভ করেন এবং ম্যাম মিটিংয়ে আছে বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।'

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।