চুয়েটে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদযাপন রবিবার


Published: 2019-08-31 17:08:48 BdST, Updated: 2019-09-18 05:27:59 BdST

চুয়েট লাইভ: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল রবিবার। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং চুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

এবার ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপি নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, আনন্দ র‌্যালি, পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, চুয়েটের উপর ডকুমেন্টারি উপস্থাপন, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও পুরস্কার বিরতণ প্রভৃতি।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই প্রতিষ্ঠানটি বিআইটি, চট্টগ্রাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চুয়েটের যাত্রা শুরু হয়।

এক নজরে চুয়েট :
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) বাংলাদেশে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা-গবেষণার একটি অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে ১৯৬৮ সাল হতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালে উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তির শিক্ষাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেয়া। তখন কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধীনে পরিচালিত হত।

প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনার ভার ন্যস্ত ছিল মন্ত্রণালয়ের হাতে এবং স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে। কলেজটির সার্বিক পরিচালনা ত্রিপক্ষীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকায় যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে ও বিভিন্ন জটিল সমস্যার আবর্তে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির মূখ্য উদ্দেশ্য অর্জন ব্যহত হয়।

নানাবিধ জটিল সমস্যাবলীর সমাধানের উদ্দেশ্যে সরকার ১৯৮৬ সালে দেশের ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে স্বায়ত্ত্বশাসিত বিআইটি’তে রূপান্তরিত করে। সীমিত পরিসরে স্বায়ত্ত্বশাসন লাভের পরেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিআইটি, চট্টগ্রাম নানাবিধ সমস্যার সম্মূখীন হয়।


শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকুরী সংক্রান্ত অসুবিধা, গবেষণাগারে উন্নতমানের যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা গবেষণা কার্যক্রমের জন্য বাধা হয়ে পড়েছিল। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআইটি, চট্টগ্রাম ১ সেপ্টেম্বর ২০০৩ থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন প্রায় ১৭১ একর জমির উপর মনোমুগ্ধকর নৈসর্গিক পরিবেশে চুয়েট ক্যাম্পাস অবস্থিত। বর্তমানে চুয়েটে ৫ টি অনুষদ, ১৮ টি বিভাগ, ৩ টি ইনস্টিটিউট, ৩ টি গবেষণা সেন্টার এবং ৭ টি আবাসিক হল (৫ টি ছাত্র হল ও ২ টি ছাত্রী হল) রয়েছে।

চুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪,৫০০ জন। এছাড়া ২৭০ জন শিক্ষক, ১৬০ জন কর্মকর্তা ও ৩২০ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এখানে প্রতিবছর স্নাতক কোর্সে ৮৯০ আসনের বিপরীতে চারটি অনুষদের অধীনে ১২ টি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগসমূহ হচ্ছে, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল এন্ড ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, আরবান এন্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ম্যাটেরিয়াল্স সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রভৃতি।

এছাড়া নন-ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ হচ্ছে, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও মানবিক বিভাগ। গবেষণা ইনস্টিটিউটসমূহ হচ্ছে- ইনস্টিটিউট অফ এনার্জি টেকনোলজি, ইনস্টিটিউট অফ আর্থকোয়েক ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ, ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি।

গবেষণা সেন্টারসমূহ হচ্ছে, সেন্টার ফর রিভার, হারবার, এন্ড ল্যান্ড-স্লাইড রিসার্চ, সেন্টার ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রবলেম্স রিসার্চ, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ। পাশাপাশি ব্যুরো অফ রিসার্চ, টেস্টিং এন্ড কনসালটেন্সি (BRTC) নামে পৃথক একটি সেন্টারের মাধ্যমে সারাদেশে বিবিধ শিল্প এবং প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি সংক্রান্ত সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

ঢাকা, ৩১ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।