আনন্দঘন পরিবেশে নোবিপ্রবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন


Published: 2019-07-15 16:51:54 BdST, Updated: 2019-08-19 08:10:17 BdST

নোবিপ্রবি লাইভঃ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে আজ সোমবার (১৫ জুলাই ২০১৯) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০১৯ উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম পরিবেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্রই উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, উদ্বোধনী ঘোষণা, আনন্দ শোভাযাত্রা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কেক কাটা, তথ্যচিত্র উপস্থাপনা, সম্মাননা স্মারক প্রদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সকাল ৯ টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সদর-সুবর্ণচর -০৪ আসনের এমপি ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ও নোবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল-আলম, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন, পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোঃ মমিনুল হক।

পরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যাপ ও টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়।

শেষে সকাল সকাল ১০টায় মিনিটে হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা।

ভিসি প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল-আলম এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর-সুবর্ণচর -০৪ আসনের এমপি ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরান তেলওয়াত করেন মো. মাহমুদুল হাসান, গীতা পাঠ করেন পাপিয়া, ত্রিপিটক পাঠ করেন সেবিতা চাকমা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল-আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল হতে কাজ করেছেন যেসকল উপাচার্যবৃন্দ সকলের অবদানসহ অদ্যাবধি নোবিপ্রবির নানা অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। সভা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোঃ মমিনুল হক।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি একরামুল করিম চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনা সরকারের অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে, তিনি না হলে নোয়াখালীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হতো না। সুতরাং আমরা কোনো ভাবেই আমাদের সৃষ্টিকে অস্বীকার করতে পারিনা’।

তিনি আরো বলেন, আগামীতে এ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়ক হবে ফোরলেন, এখানকার ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ রেলপথে যোগাযোগ করতে পারবে। আর পরিবারের সদস্যদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে হাউজিং করা হবে।

সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী আরো বলেন, আমার সম্মুখে যেসব শিক্ষার্থী বসে আছেন, আপনার কেউ আগামী দিনের সচিব, গবেষক ও বিজ্ঞানী আমি আপনাদের প্রাণবন্ত ভবিষ্যত কামনা করি। এখানে অনেক গরীব শিক্ষার্থী আছেন অর্থাভাবে তাদের যেন পড়াশোনার বিঘ্ন না ঘটে। এ পরিবারের একজন অভিভাবক হিসেবে তাদের যেকোনো সহযোগীতা করতে আমি আন্তরিকভাবে প্রস্তুত আছি।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মত এমন আনন্দঘন দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন কামনা করে বক্তৃতা করেন আলোচনা সভার সভাপতি ও বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল-আলম। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো বিশ্বনেতা শতবছরেও জন্মায় না, আমরা তার দেখানো ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষ।

তিনি আরো বলেন, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ এমন দিনে আমি নোবিপ্রবির ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে কঠিন দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি তা পালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবো। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠামোসহ সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে আপনারা আমাকে সহযোগীতা করবেন বলে আমি আশা করি। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পাশে সর্বদা থাকার জন্য সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কাজগুলো চলমান রাখতে এমপি মহোদয়ের সহযোগীতা কামনা করেন। এসময় এমপি মহোদয়ও সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

একাডেমিক মানকে গতিশীল করতে নোবিপ্রবিতে আগামীতে পদার্থ, গণিত ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মতো যুগোপযোগী বিভাগ খুলবেন বলে ঘোষাণা দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল-আলম।

পরিশেষে তিনি সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তৃতা শেষ করেন। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে আরো বক্তৃতা করেন, নোবিপ্রবি সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন, পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন, ডিসি (ভারপ্রাপ্ত) নোয়াখালী মো. আবু ইউছুফ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড.গাজী মো. মহসিন, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোখলেস-উজ-জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মো. ওয়ালিউর রহমান আকন্দ, নোবিপ্রবি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি সফিকুল ইসলাম রবিন, কর্মচারীদের পক্ষে সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি পরিবারের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, ছাত্র নির্দেশনা পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, অফিসার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ১৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।