শেষ সময়ে দিয়াজ হত্যার আসামিদের খুশি করছেন চবি ভিসি!


Published: 2019-05-12 13:05:11 BdST, Updated: 2019-07-20 11:58:11 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যার আসামিদের পুরষ্কৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি তার মেয়াদের শেষ সময়ে হত্যা মামলার আসামিদের পুরষ্কৃত করছেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সান্নিধ্য পাওয়ার মাধ্যমে আবারও চবির ভিসি হওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ জুন। এরই মাঝে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় নেতাদের আশীর্বাদপুষ্টদের নিয়োগ দিচ্ছেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভিসি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। মেধাবী ছাত্র দিয়াজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।

দিয়াজের পরিবার ও তার অনুসারী ছাত্রলীগকর্মীরা শুরু থেকেই এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছিল। লাশ উদ্ধারের তিন দিন পর ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিক্যালের চিকিৎসকদের দেওয়া প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে হাটহাজারী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলাও করে পুলিশ। তবে এ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পরদিন দিয়াজের মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপু, সহসম্পাদক আব্দুল মালেকসহ সংগঠনটির ১০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। পরে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দেওয়া প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা দিয়াজের শরীরে হত্যার আলামত পাওয়ার কথা জানান।

এ মামলায় সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের এ শিক্ষকের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সহকারী কিউরেটর হিসেবে চাকরি পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরে। আরেক আসামি আব্দুল মালেকের সহোদর আলিমুল্লাহ নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় যে ভাড়া বাসা থেকে দিয়াজের মরদেহ উদ্ধার করা হয় সে বাসার দারোয়ান মিজানুর রহমান মিন্টুও চাকরি পেয়েছেন গ্রন্থাগারে।

এ ছাড়া গত বছর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সাঈদা আক্তার শাহনাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দিয়াজের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করার অভিযোগ এনেছিল তার পরিবার।

ছবি : বাঁ থেকে চবি ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, উপরে ময়না তদন্তে প্রভাব খানানো চমেক হাসপাতালের প্রিন্সিপালের স্ত্রী সাঈদা আক্তার শাহনাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিযুক্ত, হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আয়েশা আক্তার জাদুঘরের সহকারি কিউরেটর নিযুক্ত, নিচে বাঁ থেকে লাশ উদ্ধার হওয়া সেই বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান মিন্টু গ্রন্থাগারে নিযুক্ত ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল মালেকের ভাই আলীমুল্লাহ নিম্মমান সহকারী নিযুক্ত হয়েছেন।

এদিকে দিয়াজের পরিবারের অভিযোগ, ভাড়া বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান মিন্টুকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া আরেক আসামি আনোয়ার হোসেন গ্রেফতার হওয়ার পর তার স্ত্রীকে চাকরি দেন ভিসি। ছাত্রলীগের সহসভাপতি আব্দুল মালেকের ছাত্রত্ব শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারণেই এখনো তিনি ক্যাম্পাসে থাকতে পারছেন। ভিসি আব্দুল মালেককেই চাকরি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দিয়াজের পরিবার প্রতিবাদ করায় তার ভাই আলিমুল্লাহকে নিম্নমান সহকারী হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

দিয়াজের বড় বোন জুবাইদা সরওয়ার চৌধুরী নিপা বলেন, দিয়াজের হত্যাকারীদের আড়াল করতে ভিসি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিয়াজ হত্যাকারীদের পুরস্কার হিসেবে তিনি চাকরি দিচ্ছেন। এ ধরনের কাজ কখনো মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দিয়াজ ইরফানের দুই মামা ও মা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন। কিন্তু দিয়াজ হত্যা মামলার আসামিদের স্বজনদের চাকরি দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে বলে উল্লেখ করেন ভিসি।

[সূত্র : কালেরকণ্ঠ]

ঢাকা, ১২ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।