কুবির শহীদ মিনারে রাতে ফুলেল শ্রদ্ধা, দিনে উধাও!


Published: 2019-02-22 17:23:53 BdST, Updated: 2019-05-27 17:54:18 BdST

কুবি লাইভ: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। ভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

কিন্তু দেখা গেছে, দিনের আলো ফোঁটার সাথে সাথেই উধাও হয়ে যায় ফুলের ডালাগুলো। যা ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর চেয়ে তাদের অসম্মান করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আলোক স্বল্পতা ও প্রশাসনের উদাসীনতার ফলে এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমি সকালে আমার ছোট মেয়েকে নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছিলাম। তাকে রাতে যে ফুল দিয়েছি সেটা দেখাতে এবং কেন দিয়েছি তার কারণ বলছিলাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় শহীদ মিনারে ওঠার পরে একটা ফুলও খুঁজে পেলাম না। আমি আমার মেয়েকে কি শেখাতে পারলাম!’

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি বছরের বিশেষ কয়েকটি দিন ছাড়া সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। রাতে নিরাপত্তাকর্মীর অনুপস্থিতি ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় এর আশেপাশে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলে বসে মাদকের আসর। অথচ শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে এখানেই শ্রদ্ধা নিবেদন করে সবাই।

জাতীয় দিবসগুলো এলেই কর্তৃপক্ষের ব্যাপক তোড়জোড় থাকলেও শহীদ মিনারটি রক্ষণে সবাই উদাসীন। দুই দিন আগে শহীদ মিনারে আলোক স্বল্পতা দূর করলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত যেতে রাস্তাটিতে নেই কোন আলোর ব্যবস্থা।

বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশাকারক শিল্পী হাশেম খান ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ‘আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রতিদিনই আমাদের যুদ্ধ করে চলতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের ফুলগুলো চুরি হওয়ার ঘটনা সত্যিই আমাকে ব্যথিত করেছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই সেটা কি করে হয়? রাজাকার, আলবদররা বিশ্ববিদ্যালয়েও আছে। তারাও হয়তো ভাষা শহীদদের অসম্মান করার জন্য ফুলগুলো নষ্ট করে ফেলতে পারে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই মূল দায়ী। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন। দেশের স্বার্থে, ন্যায়ের স্বার্থে ও শহীদ মিনারের পবিত্রতার স্বার্থে এটা করা উচিত।’

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তা মো. সাদেক হোসেন মজুমদার ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ‘আমরা সকাল ৮টায় পর্যন্ত শহীদ মিনারে ছিলাম। এর পরে শহীদ মিনারে নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের বলা হয়নি।’

এছাড়াও ফুল উধাও বিষয়টি জানার পরে বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছেও লজ্জা পেতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের।

বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা শারমিন আক্তার, শরিফুল ইসলাম, সাহিনা আলমসহ বেশ কয়েকজন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, শহীদ মিনারে শুনেছি রাতে ফুল দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেগুলো তো শহীদ মিনারে থাকার কথা। আর আমরা কোথায় জুতা রেখে উঠবো বা জুতা খুলতে হবে কি না এমন কোন নির্দেশনা শহীদ মিনারে লিখা নেই।

তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দিক থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দৃষ্টিনন্দন আর শহীদ মিনারটিও বেশ সুন্দর কিন্তু এখানে আসার রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমি ফুল চুরি হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে এখনও জানি না। আমি এ বিষয়ে খবর নিয়ে দেখছি।’


ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।