দুই ছাত্রের ভর্তিতে অধ্যক্ষের আপত্তি, কলেজে তালা


Published: 2018-10-11 03:23:20 BdST, Updated: 2018-10-19 05:04:13 BdST

কুমিল্লা লাইভ: দুই ছাত্রের ভর্তিতে অধ্যক্ষের আপত্তি। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এর প্রতিবাদে কলেজে তালা দেয়া হয়েছে। চান্দিনা কলেজ ফটকে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষক, কর্মচারী ও আবাসিক ছাত্রদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। কুমিল্লার চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হামলা ও মামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে বিবিএ (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তিতে আপত্তি জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ।

আর ওই ঘটনার প্রতিবাদে কলেজ ফটকে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষক, কর্মচারী ও আবাসিক ছাত্রদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকাল ৩টায় চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকাল সাড়ে ৪টায় তালা ভেঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানাগেছে শিক্ষার্থী মো. শাহজালাল অভি চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ থেকে এবং মো. আরিফুল হক সাগর কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে ওই কলেজে ভর্তির আবেদন করেন তারা।
এদিকে বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগ কর্মীদের ভর্তি করা হচ্ছে না এমন খবর পেয়ে কলেজের সামনে ভিড় করে চান্দিনা উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কলেজ ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত ওই দুই শিক্ষার্থী হলেন- চান্দিনা পৌর ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল হক সাগর ও আর.এ কলেজ ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মো. শাহজালাল অভি।
কলেজের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৯ জুলাই কলেজে আন্দোলনের নামে কলেজের গেইট ও দরজা-জানালা ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ বাদী হয়ে শিক্ষার্থী শাহজালাল অভি সহ ১১ জনকে আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় কয়েকদিন পর গত ২৫ জুলাই কলেজের অপর এক শিক্ষার্থী বাপ্পি বাদী হয়ে এবং শিক্ষার্থী অভিকে সাক্ষী করে কলেজ অধ্যক্ষ সহ ৯ জনকে আসামি করে ৩২৬ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে একটি পাল্টা মামলা করে।

ওই মামলায় ইতিমধ্যে কলেজ অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম, পরিচালনা পর্ষদ সদস্য জামসেদ আহমেদ জাকি এবং কলেজ প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের ভাগিনা রাজিব কারাবাসে ছিলেন।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ভর্তি করানো হচ্ছে না শুনেছি। আমরা অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তার মামলার আসামি ও সাক্ষী হওয়ায় অঙ্গীকারনামা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন। এটা আসলে ঠিক না। মামলা থাকলে তা বিজ্ঞ আদালতের বিচার্য বিষয়। ভর্তি ও শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ শিক্ষার্থীদের অধিকার।

ভর্তি বঞ্চিত ওই দুই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ প্রতিষ্ঠিত চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া এলডিপির নেতা। আমরা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।

অন্যান্য ছাত্রদেরকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি করানো হয়। কলেজে ভর্তি হতে সব কগজপত্রসহ আমারা গত ৪-৫ দিন যাবৎ কলেজ অধ্যক্ষের নিকট যাই। বিভিন্ন অজুহাতে তিনি আমাদেরকে ঘুরিয়েছেন। আজ ভর্তির শেষ দিনে তিনি কলেজে নেই। উপাধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া আমাদের দুজনকে লিখিত অঙ্গীকার নামা দিতে বলেন।

অভি ও আরিফ আরও জানান, কলেজে কিছুদিন পূর্বে একটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ওই ভাঙচুরের দায় স্বীকার করে অঙ্গীকারনামা দিলে আমাদের ভর্তি করা হবে বলে উপাধ্যক্ষ স্যার জানিয়েছেন। চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া
ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, অধ্যক্ষ সাহেব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন।

আমি রুটিন ওয়ার্ক করছি, কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না। তবে কলেজে ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশের কথা উল্লেখের মাধ্যমে লিখিত অঙ্গীকার দিলে তাদের ভর্তি করানোর জন্য অধ্যক্ষ স্যার বলেছেন।

চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যাম্পাসলাইভকে জানান ওই দুইজন ছাত্র আমার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তার সাক্ষী। এছাড়া কলেজে ভাঙচুরের ঘটনায় যে মামলা কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ের করেছে সে মামলার আসামি।

তারা ভর্তি হলে আবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। এজন্য আগের ভাঙচুরের কথা স্বীকার করে ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অঙ্গীকার নামা দিতে হবে। আর আমরা তাদের কাছে অঙ্গীকারনামা চাইলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কলেজের প্রধান ফটকে ২টি তালা ঝুলিয়ে আমাদের কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

 

ঢাকা, ১০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।