চবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৫


Published: 2018-10-10 21:46:02 BdST, Updated: 2018-12-12 21:12:00 BdST

চবি লাইভ: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা যায়। বিবাদমান গ্রুপ দুটি হল সিএফসি ও বিজয়। তারা উভয়ই প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় পরবর্তী আনন্দ মিছিল শেষে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টার ঘটনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতরা হলেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের নাসিম চৌধুরী, একই বর্ষের অর্থনীতি বিভাগের মো. মোহাইমিনুল ইসলাম, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের রেদওয়ান ইবনে সাত্তার, একই বর্ষের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শরীফ ইসলাম ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের সাদাফ খান। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান দায়িত্বরত চিকিৎসক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষনার পর ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়েরর রেলস্টেশন থেকে বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের নেতৃত্বে বিজয় গ্রুপ আনন্দ মিছিল সহকারে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে আসে।

এসময় ফজলে রাব্বী সুজন প্রক্টের কার্যালয়ে প্রবেশ করার সাথে সাথে বাহিরে অবস্থানরত বিজয় গ্রুপের কর্মীদের সাথে সিএফসি গ্রুপের কর্মীদের ঝামেলা হয়। তা এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়। এসময় উভয় পক্ষ একে অপরের দিকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

এতে কলা অনুষদের একটি কক্ষের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়। এছাড়া প্রক্টর কার্যালয়ে সামনে থাকা ফুলের টবও ভাঙচুর করা হয়। পরে বিকেল তিন টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা কলা অনুষদের সামনে ও সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেয়।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ফের বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোহরাওয়ার্দী শাহ আমানত হলের সামনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ। এসময় ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝে এসে অবস্থান নেয়। প্রায় আধা ঘন্টা পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা ফজলে রাব্বী সুজন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার জন্য সংগঠনের ভিতর লুকিয়ে থাকা জামাত শিবিরের এজেন্টরা যারা সকাল থেকে কোন অবস্থান কর্মসূচীতেও ছিল না, আনন্দ মিছিলেও ছিল না, তারা প্রক্টর অফিসের সামনে অপেক্ষারত আমার নেতা-কর্মীদের উপর বিনা উস্কানিতে অতর্কিত হামলা করে।

যারা হামলা করেছে তারা ক্যাম্পাসে চিহৃিত ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, সাংবাদিক নির্যাতনকারী, যৌন নিপীড়নকারী। ক্যাম্পাসে ছোট বড় সব ঘটনার সাথেই তারা জড়িত এবং ক্যাম্পাসের দোকান থেকে ফাও খাওয়া থেকে শুরু করে যত ধরনের অপকর্ম আছে সব কিছু তারা করে। আমরা এদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানায়।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিএফসি গ্রুপের নেতা ও সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে মুঠোফোন বার বার কল দিলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাংগীর বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে ৷ বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীলকারীদের কোন ছাড় নেয়। তাদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ঢাকা, ১০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।