অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চবি কেন স্বাতন্ত্র্য


Published: 2018-10-09 00:27:28 BdST, Updated: 2018-10-19 05:05:19 BdST

সাইম রানা: চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাদে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এখনো বাকী। বাকী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও ভর্তি পরীক্ষা ভর্তিইচ্ছু শিক্ষার্থীদের দরজায় কড়া নাড়ছে। সময় আর বেশি দিন নেই, দেখতে দেখতেই পরীক্ষার দিন চলে আসবে।

শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আশায় তাদের প্রস্তুতি চলছে এখন পুরোদমে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই তাদের জন্য লোভনীয় কিছু তথ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তুলে ধরছি !! যেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর জন্য সহজ হয় বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিতে।

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা ২১০০ একরের আয়তনে ক্যাম্পাসটি যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি! শহরের কোলাহল ও যান্ত্রিকতা থেকে ২৩ কিমি দূরে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। যেখানে গর্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নয়নাভিরাম পাহাড়। যা ভ্রমনপিপাসুদের পিপাসা মেটায় !!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বাতন্ত্র্য তার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছি।

১. র‍্যাঙ্কিং:
সর্বশেষ আগষ্টে করা জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের এক নাম্বার স্থান দখল করা বিশ্ববিদ্যালয় 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়' এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং এ ৩০৫০ তম। তাছাড়া সকল জরিপে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক থেকে পাঁচের মধ্যেই থাকে।

২. আয়তন:
বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। আয়তন ২১০০ একর। অন্যান্য ক্যাম্পাস আয়তনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আশেপাশেও নেই।

৩. সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী:
লাইব্রেরীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বলা হয়ে থাকে। আর দেশের সমৃদ্ধ লাইব্রেরীগুলার মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী। দেশি-বিদেশী মিলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বই, ম্যাগাজিন আছে। যা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি বই এই লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত।

৪. শাটল ট্রেন:
পৃথিবীর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীরা যাতায়েত করে শাটল ট্রেনে। এই শাটল ট্রেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আকর্ষ । যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রাণের মেলবন্ধন ঘটে থাকে। এই শাটল ট্রেনের দেয়াল পিটিয়েই পার্থ বড়ুয়া, এস আই টুটুল সহ জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীরা বেরিয়ে এসেছেন। সম্প্রতি এই শাটল ট্রেনকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচিত্র।

৫. ঐতিহ্যের স্মারক জাদুঘর:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে গর্ব করার মত সমৃদ্ধ যাদুঘর। যেখানে রয়েছে বৌদ্ধদের নানা মূর্তি! সাথে আছে ইতিহাসের পাতা, পোড়া মাটির ফলিস, কষ্টিপাথর, হাতের লেখা পবিত্র কোরআন শরিফ, হাতির দাত দিয়ে বানানো অলংকার সহ নানান কিছুই!!

৬. কাটা পাহাড়:
ক্যাম্পাসের 'ইন্দো বার্মা হটস্পট' !! ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে দাঁড়িয়ে আছে দু'টি পাহাড় আর মাঝখান বরাবর চলে গেসে কালো পিচের রাস্তা। এই কাটা পাহাড় হচ্ছে ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখাও হতে পারে 'মায়া হরিণ'। কারণ কাটা পাহাড়ে নানা জীবজন্তুর বসবাস।

৭. ঝর্ণা:
প্রাকৃতিক আরেক নৈসর্গিক নাম ঝর্ণা। আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরেই রয়েছে অপরুপ ঝর্ণাধারা। যা ক্যাম্পাসকে আরো সৌন্দর্যবর্ধন করেছে!

৮. ঝুপড়ি:
বলা হয়ে থাকে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক আখড়া। এখানে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে গায়করা তাদের সুর তুলে থাকেন। তাছাড়া গল্পের/আড্ডার প্রধান জায়গা এই ঝুপড়ীগুলো।

তাছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত ধরেই অনেক বিষয়ের উদ্ভব ঘটেছে। প্রতি বছরই দু'একটি করে নতুন ডিপার্টমেন্ট চালু করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আরো অনেক দিকই আছে যার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিখ্যাত।

তাই যারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিই লক্ষ্য বা যারা পরীক্ষা দিতে চাও তারা বুঝতেই পাচ্ছো কেমন ক্যাম্পাস এটি। তাই আর দেরি নয়, নিজের সেরাটা দিয়ে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলে নিজের আসনটি পাকাপোক্ত করে ফেল !!

মো: সাইম রানা
শিক্ষার্থী
বাংলা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

ঢাকা, ০৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।