একই তারিখে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা


Published: 2018-09-14 15:44:29 BdST, Updated: 2018-09-23 19:04:43 BdST

আমিনুল মহিম: তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ একই দিন হওয়ায় বিপকে পড়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এবং ববঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষার তারিখ প্রায় একই সময়ে নির্ধারণ করা হয়। এতে করে বিপাকে পড়েছে এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা।

ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞতিতে উল্লিখিত সময়সূচি থেকে একই তারিখে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লিখিত সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৬, ২৭ এবং ২৮ অক্টোবর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও আগামী ২৭, ২৮, ২৯ এবং ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২৮, ২৯ অক্টোবর ও ২, ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ২৭ এবং ২৮ অক্টোবর তারিখে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ছে। নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন ভর্তি কোচিং ঘুরে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে ভর্তির তারিখ নিয়ে তাদের নানান অভিযোগ এবং সমস্যার কথা জানা গেছে।

শিক্ষার্থীরা জানায় ইচ্ছে থাকা সত্বেও তারা আবেদন করতে করছেনা। একই দিনে পরীক্ষা হওয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। এতে করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে পারছেনা বলে জানায় তারা।

তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়েই মোট চারদিন এর মধ্যে দুই দিনের পরীক্ষার সময় একই হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু মাত্র একটিতেই পরীক্ষা দিতে পারবে। কারণ অন্য দুইদিনের পরীক্ষা হয়ত মিলে যাওয়া দিনগুলোর আগের দুইদিন নয়তো পরের দুইদিন অনুষ্ঠিত হবে। পথের দূরুত্বের কারণে শিক্ষার্থীরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়েই পরীক্ষা দিতে পারবে। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে ভর্তির তারিখ নিয়ে তাদের এই সমস্যা গুলোর কথা জানা যায়।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিশেষায়িত একটি কোচিং সেন্টারে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কোচিং করা শিক্ষার্থী নন্দিতা দত্ত ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, "নোবিপ্রবি যেহেতু আমার নিজ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় তাই এখানে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু একই দিনে চবিতেও পরীক্ষা। নোবিপ্রবিতে জিপিএ মার্কস কাউন্ট করে ১০০ আর চবিতে ২০ তাই চবিতে আবেদন করেছি। যেহেতু আমার জিপিএ কম তাই নোবিপ্রবিতে আবেদন করিনি। করেও লাভ নেই পরীক্ষা তো দিতে পারবনা।"

এবার কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে তাই চবিতে যেহেতু জিপিএ কম কাউন্ট করা হয় তাই বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নোবিপ্রবিতে আবেদন না করে চবিতেই করবে বলেও অভিমত দেন এই শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নোবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবি ও করেন এই শিক্ষার্থী।

নোয়াখালী শহরের আরো কয়েকটি কোচিং ঘুরে শিক্ষার্থীর নানান হতাশার কথা জানা যায়। একই দিনে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় তারা নানান সমীকরণ চিন্তা করে এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন একটিকে বেচে নিতে দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কে এগিয়ে রেখেছেন সবচে বেশি।

ভর্তিচ্ছু আরেক শিক্ষার্থীর রুকাইয়া সুলতানা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, "চবি সেকেন্ড টাইম নাই কিন্তু নোবিপ্রবিতে সেকেন্ড টাইম আছে। একদিকে একই দিনে পরীক্ষা অন্যদিকে সুযোগ যেহেতু একবারই আছে তাই আমি নোবিপ্রবিতে আবেদন না করে চবিতেই করেছি।"

নোবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ৮০০ যা বাকি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেশি। আর নতুন করে দেওয়া নোবিপ্রবির সার্কুলারে ইউনিট বৃদ্ধিসহ পরীক্ষা পদ্ধিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নোবিপ্রবিতে আবেদন না করার পেছনে এই কারণ গুলোও তুলে ধরেন ভর্তিচ্ছু এই শিক্ষার্থী এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে নোবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবিও করেন এই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, "যে ইস্যু টা রেইজ হয়েছে এটা অত্যন্ত ভ্যালিড একটা ইস্যু। আগামী সপ্তাহে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে মাননীয় উপাচার্যের সাথে আমাদের মিটিং আছে, আমি মিটিং এ বিষয়টি উত্থাপন করব। সেখানে ভিসি সহ আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।"

এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে উল্লেখ করেন অ্যাপ্লাইড কেমেস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ড সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিঞা। তিনিও মিটিং এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার প্রফেসর মোমিনুল হক ক্লিয়ার কিছু জানাতে পারেননি।

শিক্ষার্থীরা যেখানে ইচ্ছা আবেদন করতে পারবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তেমন কিছু আসে যায়না। কিন্তু একই দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তো দূরের কথা ভর্তি পরীক্ষায় হয়ত অংশগ্রহণই করতে পারবেনা হাজারো ভর্তিচ্ছু, জানায় শিক্ষার্থীরা।

এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে নোয়াখালী অঞ্চলের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী যাতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয় এবং সবাইকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।


ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।