কুবিতে ছাত্রলীগের হতে সাধারণ শিক্ষার্থী প্রহৃত


Published: 2018-07-19 19:48:41 BdST, Updated: 2018-10-18 16:02:49 BdST

কুবি লাইভ: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকবাল খাঁনকে বেধড়ক পেটায় ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। মারধরের শিকার ইকবাল খাঁন স্থানীয় ২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল ফজল খাঁনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাঈনের সাথে একই বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালমানের কথাকাটাকাটি হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে সালমান উত্তেজিত হয়ে বিভাগের সিনিয়র মাঈনের গায়ে হাত তোলে। ঐ ঘটনার সমঝোতার জন্য মাঈন তার বিভাগের সিনিয়র ৯ম ব্যাচের ইকবাল খানসহ কয়েকজনের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন।

ইকবাল তার বিভাগের জুনিয়র সালমানকে ডেকে আনে ঘটনা জানার জন্য। এতে সালমান উত্তেজিত হয়ে সেখান থেকে চলে গিয়ে পরে হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা কর্মীকে নিয়ে এসে ইকবালসহ তার বন্ধুদের ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে বেধড়ক মারধর করে। এতে ইকবাল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

মারধরের নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আহমেদ আলী বুখারী, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক এবং হিসাব ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মুনতাসির আহমেদ হৃদয়, উপ-মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক ও লোক প্রশাসন বিভাগের মো. এনায়েত উল্লাহ, সদস্য এবং হিসাব ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. মিরাজ খলিফা, একই বিভাগের রাফিউল আলম দীপ্তসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ ও ১২তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী।

এছাড়াও গতকাল বুধবার বাসে সীট রাখাকে কেন্দ্র করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলামকে ক্যাম্পাসের প্রধান গেট থেকে কয়েক হাত দূরে বেধড়ক মারধর করে অভিযুক্ত এ নেতাকর্মী।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘আমি শুনেছি র‌্যাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘আজকের মারধরের ঘটনাটি ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে কোন অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। তবে বিভাগের শিক্ষকরা এ বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আহমেদ আলী বুখারী ও মুনতাসির আহমেদ হৃদয় এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত বছরের ২০ডিসেম্বর শাখা ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার হয় এবং পরবর্তীতে ১০মে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের সাথে সাথে তারা আবারও বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা এবং মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে নিজদলীয় নেতাকর্মীদেরও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, যেখানে ছাত্রলীগ আমাদের সহযোগিতা করার কথা সেখানে ছাত্রলীগ নামটি আমাদের কাছে কেবলই আতঙ্কের নাম। ছাত্রলীগের এ ধরণের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীর জন্যই ক্যাম্পাসে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে। কিন্তু এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরের মতই নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে বলে এমন ঘটনা বার বার ঘটছে বলে জানান তারা।

 

 


ঢাকা, ১৯ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।