আনন্দঘন পরিবেশে নোবিপ্রবিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন


Published: 2018-07-16 17:23:42 BdST, Updated: 2018-08-18 09:12:14 BdST

নোবিপ্রবি লাইভ: নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম পরিবেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্রই উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, উদ্বোধনী ঘোষণা, আনন্দ শোভাযাত্রা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কেক কাটা, তথ্যচিত্র উপস্থাপনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ড. একে আজাদ চৌধুরী, প্রফেসর এমিরেটাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নোবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। পরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যাপ ও টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। শোভাযাত্র শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়।

শেষে সকাল সকাল ১১টায় হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা। ভিসি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী। সভার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল হতে কাজ করেছেন যেসকল ভিসিবৃন্দ সকলের অবদানসহ অদ্যাবধি নোবিপ্রবির নানা অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হক। অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন ওশানোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এম গোলাম মোস্তফা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ড. এক. আজাদ চৌধুরী সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রসহ নানা সেক্টরের উন্নয়ন কর্মকানন্ডের বর্ণনা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, রেকর্ড ৭.২ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাক্ষেত্রে এক হাজার কোটি টাকার নিচে বাজেট দিচ্ছেন না, যা উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে এক মাইলফলক। বাজেটেও সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যায়ের সরকারের সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানান তিনি।

বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা

 

ভিসি ড. অহিদুজ্জামানের স্বপ্ন নোবিপ্রবিকে একটি উন্নত বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করবে। আমি আশা করি সরকার ও নোবিপ্রবির সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সহযোগীতা করলে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। নোবিপ্রবি একাডেমিক ও গবেষণার ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মত এমন আনন্দঘন দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন কামনা করে বক্তৃতা করেন আলোচনা সভার সভাপতি ও বিশ্বদ্যিালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠামো উভয় দিক থেকে অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করলেও আজ নোবিপ্রবি অনেকদূর পৌঁছেছে। শুরুতে চারটি বিভাগ নিয়ে পথচলা শুরু করেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে আজ ২৫টি বিভাগ।

আগামীতে কেমন নোবিপ্রবি হবে তার বর্ণনা করতে গীয়ে তিনি বলেন সরকারের ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন ও ব্লু ইকোনোমি প্রসারের লক্ষে সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট স্থাপন’ এর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

একাডেমিক গবেষণাকে ত্বরান্বিত করতে নোবিপ্রবিতে ডেল্টা প্ল্যান গঠন, মহাকাশ বিষয়ে গবেষণা, এনভায়রনমেন্ট অনুযায়ী ইকোলজি বিষয়ে পঠন-পাঠন ও ব্যবস্থাপনার কাজ করা হবে। এছাড়া রোবোট্রিক্স ও মেকাট্রোনিক্স এর মতো যুগোপযোগী বিভাগের দ্বার উন্মোচন করা হলো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিধি।

এসময় তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে ২ তলা স্পেইস রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ, ক্যাম্পাসে ০১টি হেলিপ্যাড নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতা নিরসনে আগামীতে দেশের সর্ববৃহৎ ২০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। আর পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হবে ২০ তলা ভিতে আলাদা ছাত্র ও ছাত্রী হল।

ভিসি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তার সুযোগ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করছেন। একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগীতা করা ইবাদতের অংশ। কর্তব্য পালনই ইবাদত, আর দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করে দেশের খেদমত করা বড় ইবাদত।

পরিশেষে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও ৭৫ এর কালো রাত্রিতে নিহতদের স্মরণ করে বক্তৃতা শেষ করেন। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে আরো বক্তৃতা করেন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রফেসর ড. গুলশান আরা লতিফা, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোখলেস-উজ-জামান, দৈনিক জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদক কিবরিয়া চৌধুরী, শিক্ষার্থীদের পক্ষে রোকসানা আক্তার রুহি ও সাদ্দাম হোসেন, কর্মচারীদের পক্ষে সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি পরিবারের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, ছাত্র নির্দেশনা পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, অফিসার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 


ঢাকা, ১৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।