ইবিতে ওয়াইফাইয়ের কচ্ছপগতি, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি


Published: 2018-04-19 14:08:22 BdST, Updated: 2018-08-18 20:39:09 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইফাই ইন্টারনেট চলছে কচ্ছপগতিতে। দেশে ৪-জি ব্যবস্থা চালু হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো পর্যন্ত ৩-জি সুবিধাই ঠিকমতো পাচ্ছে না। ইন্টারনেট খাতে বছরে ৪ শত টাকা দিলেও তার বিপরীতে সেবা দিতে পারছেনা প্রশাসন। এতে একাডেমিক-প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের গবেষনাসহ যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সকলের।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রশাসনিক ভবন, তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস, টিএসসিসিতে, ৬ টি আবাসিক হল, অনুষদ ভবনগুলোতে, বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে, আবাসিক শিক্ষক কোয়ার্টারে ওয়াইফাই জোন চালু থাকলেও তা চলছে খুব ঢিমেতালে।

সকালে ওয়াইফাই থাকলে আবার দুপুরে থাকে না। সন্ধ্যায় কিছু সময় থাকলেও আবার রাতে স্প্রিড পায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবনে ওয়াইফাই রাউটার ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে নিরবিচ্ছিন্ন ওয়াইফাই সুবিধা পাচ্ছে না সুবিধাভোগীরা। ফলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে অপারগ হচ্ছেন অনেকেই।

বিদ্যুৎ থাকাকালীন সময়ে ওয়াইফাই নেট সংযোগ পাওয়া যায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেটরে বিদ্যুৎ সরবরাহকালীন সময়ে এ সংযোগ পাওয়া যায় না। গত ১ সপ্তাহ যাবত ক্যাম্পাসে তীব্র লোডশিডিংয়ের কারনে ভাবসা গরমে শ্রেণীকক্ষে ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা একেতো চরম অতিষ্ঠ, অন্যদিকে লোডশিডিংয়ের কারনে ওয়াইফাই নেট সংযোগও বারবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা পারছেনা ঠিকমতো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে, পারছেনা ইন্টারনেটে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সার্চ দিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসমূূহের মধ্যে তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ ও প্রেস কর্ণার এক গুরুত্বপূর্ণ অফিস। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় তথ্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস, জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক ও অনলাইন পত্রিকাগুলোতে পাঠানো হয়। কিন্তু ঘন ঘন লোডশিডিং ও ওয়াইফায়ের চরম লুকোচুরির কারনে অফিস দুটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার সাহেদ হাসান বলেন, গত দুই দিন নিউজ কাভার করতে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। তাছাড়া সমস্ত মাসেঘিতো ওয়াইফায়ের ধীরগতি রয়েছেই।

এদিকে আবাসিক হলসমূহে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবনির্মিত শেখ রাসেল হল ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল বাদে প্রতিটি হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রয়েছে ওয়াইফাই সমৃদ্ধ ইন্টারনেট ব্যবস্থা। কিন্তু ইন্টারনেট চলছে খুব ধীরগতিতে। ঠিকমতো ইন্টারনেট না থাকাই ওয়াইফাই রাউটারের খুুব কাছাকাছি থেকে নেট চালাতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিমেল বলেন, একাডেমিক কিছু পড়াশুনা রয়েছে, যেটা নেট থেকেই আমাকে কাভার করতে হয়। কিন্তু ওয়াইফায়ের যে গতি তাতে পড়াশুনায় চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাখি বলেন, প্রতিদিন আমাকে আমাদের সেশনের গ্রুপে ক্লাসের সময়, টিউটরিয়াল পরীক্ষার সময়-তারিখসহ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখতে হয়। কিন্তু ওয়াইফায়ের কোন স্প্রিড না থাকায় খুব সমস্যায় পড়ে যায়। এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী ইমানুল বলেন, একেতো দিন-রাত লোডশিডিং আবার ইন্টারনেটের ধীরগতি। পারছি না নেটে কিংবা বিদ্যুতের আলোয় কোনটাই পড়াশুনা করতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, আমাদের নেটওয়ার্কের সমস্যা নেই, শুধু ডাটা বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিটিজেনের সাথে কথা বলে আমরা এই সমস্যার দ্রূত সমাধানের চেষ্টা করবো।

 

 


ঢাকা, ১৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।