জাবিতে ৬ শিক্ষককে মারধর, ক্যাম্পাসে চলছে উত্তেজনা


Published: 2018-04-17 15:50:22 BdST, Updated: 2018-05-24 08:22:50 BdST

জাবি লাইভ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকদের গ্রুপিং লবিং চলছে চরম আকারে। শিক্ষাগুরুদের পক্ষ বিপক্ষে জাবি ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের’ ছয় শিক্ষককে পিটিয়ে জখম করেছে ভিসিপন্থী শিক্ষকরা।

এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে এখন থমথমে বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষারর্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মহলেও এ নিয়ে হতাশার ছাপ লক্ষ করার মতো।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায় শিক্ষকদের ডাকা ধর্মঘট পালন কালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি মাঝে শুরু হয় হাতাহাতি। হাতাহাতির এক পর্যায়ে ভিসিপন্থী শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের’ ছয় শিক্ষককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষকদের সাভারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসরা ড. আমির হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্ট, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে সর্বাত্মক ধর্মঘট চলছিল। মঙ্গলবার ভোরে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি ছাড়তে বাধা দিলে প্রক্টর জুলকার নাইনের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক এসে তাদের পিটিয়ে জখম করে। হামলাকারীরা ভিসিপন্থী শিক্ষক বলেও জাননা তিনি।

হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রক্টর জুলকার নাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এধরনের কোন অঘটন ঘটেনিই তবে ভিসিপন্থী শিক্ষকদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে।

ভিসি ড. ফারজানা ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, কতিপয় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে ভিসি প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলামের অফিস অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা সব ক্লাস-পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন।

‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে ধর্মঘট পালনকারী শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান ভিসি গত ১১ এপ্রিল ৯ জন প্রভোস্টকে নিয়ম না মেনে অব্যাহতি দিয়েছেন, যা নজিরবিহীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের বিধি (১০) অনুযায়ী, শুধু সিন্ডিকেটই প্রভোস্ট নিয়োগ ও অব্যাহতি দিতে পারে, আর কেউ নয়। এই বিধি অনুযায়ী ভিসির প্রভোস্ট নিয়োগ বা অব্যাহতি দেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই।

অব্যাহতি পাওয়া প্রভোস্টদের মধ্যে ভিসি ড. মো. শাহেদুর রশিদ ছিলেন প্রভোস্ট ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের বিধি-২২(৩) অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ এবং সাকসেসর না আসা পর্যন্ত তিনি সিন্ডিকেট সদস্য থাকবেন।

সিন্ডিকেটের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রভোস্ট থাকবেন। কিন্তু ভিসি নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্যকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর আগেও ভিসি নির্বাচিত ডিনকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের পরিপন্থী বলে মনে করছেন তারা।

আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অভিযোগ, অনির্বাচিত ভিসি নতুন করে প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তারা অবৈধ। তাদের নিয়োগ বৈধ নয়।

সিন্ডিকেট কর্মপরিচালনা বিধির ২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সভায় ভিসি অনুপস্থিত থাকলে সিন্ডিকেট উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে থেকে একজনকে সভাপতি নির্ধারিত করবেন।’ এই দুই ধারায় নিয়মিত সিন্ডিকেট অনুষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অথচ ভিসি দীর্ঘদিন ধরে কোনো সিন্ডিকেট ডাকেননি এবং গত ১২ এপ্রিল তারিখে ৩০৩তম সভা আহ্বান করে সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দকে চিঠি দিয়ে সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করেন।

 

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।