ভাষার মাস: অবহেলিত শাবি শহীদ মিনার


Published: 2018-02-20 21:28:40 BdST, Updated: 2018-06-19 09:02:57 BdST

শাবি লাইভ : ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। শহীদদের পবিত্র রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বাংলা ভাষা। একটি ভাষা, একটি জাতির বড় পরিচয়, যা আমরা পেয়েছি শহীদদের আত্ম উৎসর্গের মধ্য দিয়ে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) ভাষার মাসেও অবহেলিত অবস্থায়, ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২০ একর জায়গার সবচাইতে উঁচু স্থানে অবস্থিত দেশের একমাত্র টিলাবেষ্টিত শহীদ মিনারটি অবহেলার শিকার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো গুরুত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলাবেষ্টিত এই শহীদ মিনারের উভয় পাশে বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে, আর গাছের শুকনো পাতাসহ বিভিন্ন কাগজের টুকরো ছড়িয়ে আবর্জনার স্তুপ জমে রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বাইরের দর্শনার্থীরা ঘুরতে এসে যত্রতত্র খাবারের প্যাকেট, কাগজ ও অন্যান্য ময়লা ফেলে রাখে যা যেনো পরিষ্কার করার কেউ নেই।

শহীদ মিনার উঠার সিঁড়ির শুরুতে শহীদ মিনারে অবস্থানের সময়কাল এর বড় একটি নোটিশ বোর্ড থাকা সত্ত্বেও শহীদ মিনার এর মূল বেদির সম্মুখে রয়েছে নাম মাত্র কাগজে লেখা নোটিশ “শহীদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে জুতে খুলে বেদীতে অবস্থান করতে বলা হল” যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের দর্শনার্থীরা তা তোয়াক্কা না করে মূল বেদীতে যত্রতত্র জুতাসহ প্রবেশ করছে।

শহীদ মিনারে ঘুরতে আসা ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪৩তম ব্যাচ শিক্ষার্থী সাগর মাহফুজ জানান, দেশের প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের সম্মানে শহীদ মিনার থাকলেও, শাবিপ্রবির এই শহীদ মিনারটি গুরুত্ব অন্যরকম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিৎ দেশের একমাত্র টিলাবেষ্টিত শহিদ মিনারের সংস্করণসহ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোড়দার করা।

এতে শহীদ মিনারটি শুধু ২১শে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রিক ভাষা সচেতনতা তৈরি করবেনা, সারা বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বাইরের দর্শনার্থীদের বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে।

সিলেট বিভাগে উচ্চ শিক্ষার জন্য একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত শহীদ মিনারটি এই অঞ্চলের ভাষা অান্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে সকল শিক্ষার্থীর মনে শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে। তাই এই শহীদ মিনারের সংস্কারের জোড় দাবি জানান।

শহীদ মিনারের সংস্করণ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: ইসফাকুল হোসেন জানান, সংস্কারসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে। এছাড়া যারা মূল বেদীতে জুতাসহ সাধারণ জ্ঞানহীন বহিরাগত দর্শনার্থীরা প্রবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যারয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা এই কাজ হয়না কখনো।

২০ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।