ইবি'তে ভর্তি জালিয়াতি: আদালতের নির্দেশে তদন্ত কমিটি


Published: 2018-01-16 17:21:18 BdST, Updated: 2018-02-25 00:09:41 BdST

 

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ‘এফ’ ইউনিট নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন উর রশিদ আসকারী পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম আব্দুল লতিফ।


জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ শিক্ষবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করার জন্যও বলা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আখতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. এএইচএম আক্তারুল ইসলাম জিল্লু, বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন, টিএসসিসির পরিচালক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬-২০১৭ শিক্ষবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি ১০০ শিক্ষার্থী ওই ইউনিটভুক্ত পরিসংখ্যান ও গণিত বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই বছরের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফারহানা আক্তার লিজাসহ ৮৮শিক্ষার্থী হাই কোর্টে রিট করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৩ মার্চ হাই কোর্ট বিভাগ সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করে।

এর মধ্যে ১৬ মার্চ ‘এফ’ ইউনিটে ফের পরীক্ষা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ এপ্রিল হাই কোর্ট ওই রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করেন। আপিল বিভাগ গত বছরের ২২ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা বাতিলে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের রায় বহাল রাখে এবং ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের কারার নির্দেশ দেয়।

তখন আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল রায় দেন হাই কোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এরই প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন এবং আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিভিল আপিলের আদেশের ভিত্তিতে সেই আলোচিত ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তিতে আর কোনো বাধা নেই। তাদের ভর্তি করাতে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

 

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।