ভারতের অনুমতি নেই, ফিরে গেছে পেঁয়াজবাহী অনেক ট্রাক


Published: 2020-09-22 16:06:40 BdST, Updated: 2020-10-25 22:14:15 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ ভারতের বিভিন্ন স্থলবন্দরে অপেক্ষমাণ পেঁয়াজবাহী ট্রাককে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য সোমবার রাত পর্যন্ত কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই রানাঘাট স্টেশনে আট দিন ধরে ১৬৫ র‌্যাক পেঁয়াজ নিয়ে যে ওয়াগনগুলো অপেক্ষা করেছিল, সোমবারও কোন সুরাহা না হওয়ায় রানাঘাট স্টেশন ছেড়ে গেছে।

পেঁয়াজবাহী এই র‌্যাকগুলো কোথায় যাবে বিষয়টি জানতে চাইলে রানাঘাট রেলওয়ের গুডস বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী এই পেঁয়াজবাহী র‌্যাকগুলো যেখান থেকে বুক হয়েছে সেখানেই পৌঁছে দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, এই র‌্যাকে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি রুপির পণ্য রয়েছে।

পেট্রাপোল আমদানি রপ্তানি সমিতির সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বাসসকে বলেন, “এই অবস্থায় ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল , হিলিবন্দরসহ ৫টি বন্দর থেকেও বেশির ভাগ ট্রাক ফিরে গেছে। এই ট্রাকের ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে।”

দিল্লির সিনিয়র সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী বলেন, “গত বুধবার পাঠানো বাংলাদেশ সরকরের লিখিত অনুরোধটুকু সৌজন্যের খাতিরে কেন্দ্রীয় সরকারের মানা উচিত ছিল। কেননা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সমঝোতার চমৎকার সম্পর্ক বিবেচনায় রেখে নতুন এলসির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পরের কথা। কিন্তু বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকা পেঁয়াজগুলো অন্তত ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণের কাছে একটি ভুল বার্তা পৌঁছাবে।”

এ বিষয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, “বিভিন্ন স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজবাহী ট্রাকগুলোর বেশির ভাগ অন্যত্র চলে গেছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো।”

সঙ্গে যোগ করেন, “বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকা প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজবাহী ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু এগুলোর ব্যাপারে আজও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ইতিমধ্যে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে।”

তৌফিক হাসান বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি ভারত সরকার এখন থেকে নতুন করে পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগে যেখানে প্রতি এক হাজার কেজির মূল্য ছিল ২৫০ ডলার এখন নতুন এলসির বিপরীতে তিনগুণ বৃদ্ধি করে ৭৫০ ডলারে নির্ধারণ করার হয়েছে বলে জানা গেছে। এই তিনগুণ মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা আরেকটি ধাক্কার মধ্যে পড়বে।”

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।