নিরীহ মানুষদের ফাঁদে ফেলে টাকা কামানোর পথহায়রে ক্রেডিট কার্ড! হায়রে অত্যাধুনিক খরচাস্ত্র!


Published: 2020-07-16 23:34:07 BdST, Updated: 2020-09-20 17:21:44 BdST

মোজাম্মেল শিশির, কানাডা থেকে: ক্রেডিট কার্ড (Credit Card)। অনলাইনে কেনাকাটা। এটি একটা জটিল উপসর্গ। আরেকটা জটিল রোগের নাম। একবার কেউ আক্রান্ত হলে মুক্তির পথ দুরুহ। উন্নত দুনিয়ার মানুষের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী এই রোগে আক্রান্ত। দিনের পর দিন এই রোগকে ধাওয়া করে চলতে চলতে হতাশায় নিভে গেছে অনেকেই।

Handle করতে পারলে Credit Card অনেক সাহায্যকারী। তবে ব্যবহার না জানলে আর অনলাইনে কেনাকাটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে তা ভয়ানক। শুরুটা বেশ আনন্দদায়ক। কিস্তির টাকা দিতে না পারলেও সমস্যা নাই প্রথম প্রথম। যোগ হতে থাকে সুদ। দরকারে অদরকারে ধীরে ধীরে অনলাইনে কেনাকাটার অনিয়ণ্তিত লোভ আর সুদ।

এক সময় Credit card এর limit শেষ হবে, সমস্যা নাই, limit বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। মানে হলো, আরো কেনাকাটা করো। দুইয়ে মিলে বিশাল ঋণে পরিণত হয় কিছুদিনেই। এরপর শত চেষ্টাতেও এ জাল থেকে বের হতে পারেনা কেউ কেউ। বারে হতাশা, পারিবারিক অশান্তি আরো কত কি!

বিশেষ করে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের যদি একবার এই রোগ একবার পেতে বসে তো খবর আছে। সারাদিন ফোন অনলাইন কেনাকাটার সাইটগুলোতে ঘাটাঘাটি করবে আর নানান অর্ডার মারবে; আয়ের চেয়ে ব্যয়ই বেশি করবে। জীবন শুরুর আগেই ঋণের বোঝা মাথায়। আর এই যুব সমাজকে লক্ষ্য করেই চক্রগুলো মাঠে নেমেছে।

অর্থের প্রাচুর্য ও তার প্রভূত অভাব মানুষকে যতটা প্রভাবিত করতে পারে, ঠিক ততটাই প্রভাব ফেলতে পারে তার সুখ-শান্তি-অসুখ-বিসুখে। অন্য কোনো বস্তুগত জিনিস ততটা প্রভাবিত করতে পারে না। তাই অর্থের শৃঙ্খলা একটা অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। একটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি।

এক বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন। ওখানে আবার একটু পড়াশোনা করে চাকরি নেন। একটা আইটি কোম্পানিতে। বেশ দক্ষ আর চৌকস হবার কারণে তার পারফরম্যান্স খুব ভালো হলো; ফলস্বরূপ বেড়ে গেল বেতন।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বেতন বাড়ার কিছুদিন পর থেকে তার চলতে কষ্ট হতে লাগল। কারণ তিনি বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসা পরিবর্তন করেছিলেন। খাবার দাবার পোশাক আষাকেও খানিকটা পরিবর্তন হলো। বন্ধু-বান্ধব সার্কেলে এলো কিছু সংযোজন বিয়োজন।

তার চলতে কষ্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ, তিনি কোন ফাঁকে যে তার ক্রেডিট কার্ডের বর্ধিত সীমা শেষ করে ফেলেছিলেন, সেটা খেয়াল করেনি। হাতে ডলার নেই, ক্রেডিট কার্ডের সীমা শেষ। এখন কী করা? তার ছিল একাধিক ক্রেডিট কার্ড। সবগুলোর একই অবস্থা হলো।

কারণ, আয় যে পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, অনেক সময় খরচের বৃদ্ধি তার চেয়ে বেশি হয়। তাছাড়া, আবার ভবিষ্যতে আয় বাড়বে- এই প্রত্যাশাতেও বর্তমানের খরচ বেড়ে যায় অনেকের। বিপত্তি ঘটে তখন, যখন আয়ের বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যায় খরচের বৃদ্ধি। আর যদি হাতে থাকে অত্যাধুনিক খরচাস্ত্র ক্রেডিট কার্ড, তাহলে তো কথা-ই নেই। খরচ বাড়ানোর অনুষঙ্গটি সঙ্গেই আছে।

বাংলাদেশের মতো গরীব নিরীহ মানুষদের ফাঁদে ফেলে টাকা কামানোর পথ তৈরি করে ফেলেছে ইতোমধ্যে। এরা সর্বনাশ করে ফেলবে খেটে খাওয়া মানুষদের। কঠোর পরিশ্রম করে যা কামাবে আর জমাবে সেই পথ নিজেদের করে নেয়ার ব্যবস্থা করে ফেলেছে চালাক এই চক্র।

আপনি টাকা কামিয়ে জমাবেন আর তা দিয়ে বুক ফুলিয়ে চলবেন তা করতে দেবেনা তারা। মনে রাখতে হবে, সাধারণ মানুষ যাতে টাকা জমাতে না পারে সেজন্যে খরচের পথ তৈরি করার কৌশল ক্ষমতাবানদের আদি আবিষ্কার। সুতরাং Credit Card আর অনলাইন কেনাকাটায় যাওয়ার আগে আরেকবার ভাবুন, সাবধান।

ঢাকা, ১৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।