চলতি মাসেই ভারত তুলে নেবে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা


Published: 2019-10-14 17:48:19 BdST, Updated: 2019-11-16 00:09:05 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ চলতি মাসের শেষের দিকে পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা ভারত তুলে নিতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফলে পেঁয়াজের বাজার খুব দ্রুত আবারও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন মন্ত্রী।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বস্ত্র খাতের সামগ্রিক বিষয়ে আলোচনা ও ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কমিটির সভার আগে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমার একটা সাধারণ উৎসবের কারণে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রেখেছিল। যার কারণে সাপ্লাই বন্ধ ছিল, বর্তমানে সেটা মিটে গেছে। তারপরও অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। আমরা পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

আমি অবশ্য দেশে ছিলাম না। আমাদের সচিব পেঁয়াজ আমদানিকারকদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই বৈঠক করেছেন। বড় কিছু আমদানিকারক যেমন সিটি গ্রুপের সঙ্গে কথা হয়েছে, এ ধরনের বড় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের দামের সমস্যাটা সাময়িক। কারণ উৎস যেইটা ছিল সেটা বন্ধ হওয়ার কারণে চাপটা বেড়ে গেছে। ভারতেও এখন ৫৫-৬০ ইন্ডিয়ান রুপিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামটা আরও কিছুদিন থাকতে পারে। আশা করছি, এ মাসের শেষে ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সেটা তুলে নেবে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, আশা করা যায় চলতি মাসের শেষে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।

চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি জায়গার গোডাউনে পেঁয়াজ পচে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যুগ্মসচিবদের প্রধান করে কয়েকটি কমিটি করা হয়েছিল। তারা বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখেছে, কোথাও কোনো মজুত আছে কি না। যেসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির কাজ চলছে সেগুলোও দেখা হচ্ছে। আমি আজকেই তাদের সঙ্গে বৈঠক করব।

পেঁয়াজের দাম কিছুদিন কমছিল আবার বাড়ল কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রি বলেন, ‘আমাদের পেঁয়াজ আমদানি হয় মূলত ভারত থেকে। ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই সবাই মিয়ানমারে গেছে তখন একটু চাপ পড়েছে।

তারপরও মিয়ানমার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলেও সাথে সাথেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়াটা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়তে অন্তত ৪-৫ দিন লাগবে। তারপরও তাৎক্ষনিক দাম বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছে।

১৫ দিন আগে বলেছিলেন পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিটা বেশি দিন থাকবে না। আবার দাম বাড়ল এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে কি বলবেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি আজকেও বলব প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটু কষ্ট করতে হবে। যেহেতু আমাদের নিজেদের উৎপাদন কম, সেহেতু আমাদের পরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ভারত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এ চাপটা থাকবে।

‘ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাবো। শক্ত অবস্থানটা কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধ কোনো মজুত করে রাখে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে। বাজারে কি অবস্থা বিরাজ করছে সেটাও দেখব। ’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এই খবরে রাতারাতি খুচরা ও পাইকারি বাজারে হুঁ-হুঁ করে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। পরদিন সব ধরনের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ১০৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৩০ টাকায় ওঠে যায়।

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।