বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের নেতাকে পেটাল ছাত্রলীগ


Published: 2019-04-30 22:26:41 BdST, Updated: 2019-12-09 03:31:06 BdST

ববি লাইভঃ এবার ভিসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের দিকে হাত বাড়ালো ছাত্রলীগ। তারা আন্দোলনকারী এক নেতাকে বেধড়ক পিটিয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ভিসি বিরোধী আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। এর জেরেই মাস্টার্সের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেনকে বেধড়ক পিটিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের সূত্রে জানাগেছে মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। কে বা কারা ভিসি বিরোধী আন্দোলনের কৃতিত্ব নেবে এ নিয়ে চলছে এই মারধরের ঘটনা।

এই হামলার ব্যাপারে লোকমান জানান ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত সিফাত ও তার সহযোগীরা এর জন্যে দায়ী। তারা আগেও তাকে নানান ভাবে মারধরের চেষ্ঠা করে। কিন্তু কোন সুযোগ পায়নি।

আহত লোকমান হোসেন আরও জানান, ভিসি বিরোধী আন্দোলনে আমি সম্মুখভাগে থাকায় এটা নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিল ছাত্রলীগের নামধারী কর্মী সিফাত আহম্মেদ। নানান সময় আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয় সিফাত ও তার লোকজন।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা সিফাত আহম্মেদ জানান, লোকমানের সঙ্গে আমার কিছু হয়নি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে, আমি নাকি লোকমানের ওপর হামলা চালিয়েছি। কিন্তু আমরা একইসঙ্গে আন্দোলন করেছি। সেক্ষেত্রে তার সঙ্গে বিরোধ থাকার কথা না। কারা হামলা চালিয়েছে সেটা আমি জানি না।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লোকমানের ওপর হামলা চালালে তিনি আহত হন। পরে হামলার শিকার লোকমানকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভর্তি করা হয়েছে।

লোকমান আরও জানান, সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে আমাকে হুমকি দেয়া হয়। বিকালে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে যারা মারধর করেছে তারা সবাই সিফাতের লোক। সিফাতের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ছাত্র রিফাত বিন নাফিস, এ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের হাসিব, রাকিব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সালাহউদ্দিন শান্ত ও সোহেল হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন। তারা আমার কক্ষে ঢুকে লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে।

এদিকে ভিসি বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী জানান, প্রথমদিন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ৩ থেকে ৪ জন প্রতিনিধিত্ব করে আসলেও ছাত্রলীগের নামধারী নেতা সিফাত আহম্মেদ আন্দোলনের মাঝখান থেকে নেতৃত্ব নেয়ার চেষ্টা করে।

এই নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এছাড়া আন্দোলন সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, টেলিভিশনে লোকমান হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও তনুশ্রী ভট্টাচার্যের বক্তব্য প্রচারিত হলেও সিফাত আহম্মেদের বক্তব্য কোথাও প্রচার না হওয়ায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই নেতা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সিফাত বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্দোলনের নেতৃত্বের ক্রেডিট নিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করা কয়েকজনের ওপর হামলার জন্য টার্গেট করে। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে লোকমান হোসেনের ওপর এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীর।

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।