বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরিচয়ে একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ‘প্লেবয়’ মাহীবির!


Published: 2019-04-26 10:44:11 BdST, Updated: 2019-07-16 02:57:38 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : বয়ফ্রেন্ডকে ভিডিও কলে রেখে ইডেন কলেজের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘার আত্মহত্যার পর এনিয়ে নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। সেই আলোচিত বয়ফ্রেন্ড আদতে একজন ‘প্লেবয়’। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। ইডেনের ছাত্রীর সঙ্গেও তার প্রকৃত প্রেম ছিল না। প্রেমের নামে অভিনয় করে ওই ছাত্রীর সম্ভ্রম নষ্ট করেছে কথিত ওই বয়ফ্রেন্ড মাহীবি হাসান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহীবি হাসান বরিশাল হাতেম আলী কলেজের ছাত্র হলেও নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরিচয় দিয়ে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তেন। পরে বিয়েসহ নানা প্রলোভনে ছাত্রীদের সম্ভ্রম কেড়ে নিতেন।

স্থানীয়রা জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর কিছুটা বখে যায় সুদর্শন মাহিবী হাসান। একাধিক মেয়ের সাথে সে চুটিয়ে প্রেম করতো। তার প্রেমের সর্বশেষ শিকার ইডেন কলেজের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘা। মেঘার আত্মহত্যার পর স্বপরিবারে লাপাত্তা হয়ে গেছেন মাহীবি হাসান।

মেঘার বাবা আবুল কালাম আজাদ জানান, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় শহরের পূর্বচাদকাঠি এলাকার মৃত. মো. নফিসুর রহমানের ছেলে বরিশাল হাতেম আলী কলেজের ছাত্র মাহীবি হাসানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মেঘার। ২০১৭ সালে মেঘা ঢাকা ইডেন কলেজে ভর্তি হয়। কাঠালবাগান এলাকায় এক বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতো মেঘা। ঢাকায় গিয়ে মাহীবি হাসান প্রায়ই মেঘার সাথে দেখা করতো। মাস ছয়েক আগে মেঘা এবং মাহিবী বিয়ের ব্যাপারে একমত হলেও বাধঁ সাধেন মাহীবির মা ঝালকাঠি কির্ত্তীপাশা হাসপাতালের নার্স সেলিনা বেগম। মেঘার চাচা আবুল বাশার মেঘার বান্ধবীদের বরাত দিয়ে জানান শবে বরাতের দুদিন আগে শুক্রবার তাদের ঢাকায় কাউকে না জানিয়ে বিয়ের কথা ছিল। এ জন্য মেঘা কিছু কেনাকাটাও করেছিল। কিন্তু মাহীবি কথা দিয়েও বিয়ের জন্য আসেনি। এনিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের ঝগড়া হয়। ঘটনার দিন রোববার বিকালে মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও মেঘা এবং মাহীবির ইমোতে কথা হয়। ভিডিও কলে কথা বলার সময়ই মেঘা তার প্রেমিক মাহীবিকে জানায় সে যদি বিয়ে না করে তাহলে এখনই সে আত্মহত্যা করবে এবং মাহীবিকে ভিডিও কলে রেখে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে মেঘা ঝুলে পড়ে। মর্মান্তিক এ দৃশ্য দেখেও মাহীবি হাসান মেঘাকে বিয়ের আশ্বাষ দেয়নি। মেঘার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে মাহিবী ঝালকাঠিতে মেঘার মা রুবিনা আজাদকে মোবাইল ফোনে মেঘার মৃত্যর বিষয়টি জানায়। মেঘার মা বিষয়টি ঢাকায় মেঘার বান্ধবি আনিকাকে জানালে আনিকা কিছু বন্ধু বান্ধব নিয়ে কাঠাল বাগানের বাসায় যায়। তারা বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মেঘাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা মেঘাকে মৃত্যু ঘোষণা করে। খবর পেয়ে মেঘার চাচা ঢাকার একটি স্কুলের শিক্ষক আবুল বাশার ঢাকার কলাবাগান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কলাবাগান থানার এসআই মো. সেলিম রেজা সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন।

এসআই সেলিম রেজা বলেন, মেঘার চাচা যে ইউডি মামলা করেছেন তার ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। মেঘার আত্মহত্যার পেছনে কারো প্ররোচনা থাকলে তা তদন্তে বেড়িয়ে আসবে। তখন দন্ডবিধির ৩০৬ ধারায় প্ররোচনাদানকারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

এদিকে ঝালকাঠি শহরের পূর্বচাদকাঠি বিআইপি কলোনির পেছনে মাহিবী হাসানের বাড়ির গেটে তালা ঝুলছে। গত ২১ এপ্রিল বরাতের রাতে তারা পালিয়ে গেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।