ববিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে উন্মুক্ত আলোচনা


Published: 2019-03-06 21:45:31 BdST, Updated: 2019-08-18 19:51:16 BdST

ববি লাইভ: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে উন্মুক্ত আলোচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকাল ৩টা ৩০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ব্যাডমিন্টন মাঠে ২৪ টি বিভাগের প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী এই উন্মুক্ত আলোচনা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ইংরেজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর আরিফ হোসেন ও বাংলা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সঞ্জয় কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তা ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। ছাত্র সংসদ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনধিকার চর্চা করে বার বার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্ছিত করছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

বাংলা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, ‘ছাত্র সংসদ থাকলে শিক্ষার্থীদের কথা বলার মত একটা জায়গা থাকবে। তোমাদের সবার এই উদ্যোগককে আমি ইতিবাচকভাবে দেখছি। ছাত্র হিসেবে আমি যতটা সুবিধা ভোগ করে এসেছি তার কানাকড়িও তোমরা পাওনা। আমরা নিজেরাও তোমাদের এই কোথাগুলো বলার স্কোপ পাই না’।

ইংরেজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর আরিফ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষক, কর্মকর্তার, কর্মচারীদের সংগঠন আছে, তাদের নির্বাচন হয়। শিক্ষার্থীদের সংগঠন থাকা জরুরি। ছাত্র সংসদ থাকলে জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি হবে। ফ্লোর থাকলে শিক্ষার্থীরা অধিকার আদায়ে কথা বলতে পারে। ডাকসু না থাকায় ৯০ এর পর ছাত্র নেতারা মেইনস্ট্রিমে আসেনাই।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়আইনে ছাত্র সংসদ না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনে যা নেই কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি সে আইন থাকে তাহলে ঢাবির সেই আইন হুবহু পালন করা হবে’।

মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলিসা মুনতাজ বলেন, ‘৫২,৬২,৬৯,৭১ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ডাকসু।ছাত্র আন্দোলন তথা গণমানুষের মুক্তির বাতিঘর এই ছাত্র সংসদের অনুপস্থিতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরী করেছে চরম সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ব,সাংস্কৃতিক মনন তৈরী না হওয়ায় বারবার ব্যহত হচ্ছে গণতন্ত্রচর্চা।

ছাত্র সংসদ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে ভাতৃত্বের সম্পর্ক তৈরী হচ্ছে না। যার ফলে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি হয়ে পড়েছে অস্থিতিশীল, বাকস্বাধীনতাহীন, অগণতান্ত্রিক। তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং ছাত্র অধিকার রক্ষার্থে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন চাই’।

মার্কেটিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন,’ছাত্রদের অধিকার ও ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার জন্য ছাত্রসংসদ নির্বাচন খুবই জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম রুখে দেওয়ার জন্যও বাকসু নির্বাচন জরুরি’।

বাংলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সংসদ প্রতিনিধিত্ব তৈরি করে। আমরা ছাত্রহিসাবে চাই ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব তৈরি হোক। সেই চাওয়া থেকেই আজকের এই আলোচনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেটার পূরণ কেবল সম্ভব ছাত্রসংসদের কার্যকরী ভূমিকার মাধ্যমে। ন্যায়-অন্যায় কিংবা দাবি আদায় নয়। আমরা চাই সকল অন্যায় রুখতে, মাথা তুলে দাঁড়াতে। আর ছাত্রসংসদই হবে আমার মাথা তুলে দাঁড়াবার প্লাটফর্ম।

উন্মুক্ত আলোচনায় জয় বৈদ্য, তারেক রহমান, আহমেদ সিফাত, রুম্মান হোসেন, সুজয় শুভ, শান্ত, হৃদয় বিশ্বাস,আলিসা মুনতাজ,শফিকুল ইসলাম, লোকমান হোসেন, শুভময় বিশ্বাস, মিরাজ হোসেন, সিয়াম, আল-আমিন, নরুল্লা নূর, হাসিব রাহমান সহ আরও অনেক শিক্ষার্থী বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা)। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

ঢাকা, ০৬ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।