গৌরনদীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৬


Published: 2018-01-17 21:45:34 BdST, Updated: 2018-05-23 09:07:19 BdST

বরিশাল লাইভ: গৌরনদীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৬ জন। বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার এই সংঘর্ষ হয়। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ও খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও হাত বোমা (ককটেল) বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে।

এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় সেখান থেকে পুলিশ একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা (ককটেল) উদ্ধার ও বিস্ফোরিত বোমার (ককটেল) আলামত উদ্ধার করেছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত তিন জনকে গৌরনদী ও বরিশালের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বড় দুলালী গ্রামের আব্দুল জব্বার হাওলাদারের ছেলে উপজেলার সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোঃ রাসেল হাওলাদার ও তার সহযোগী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা এবং উপজেলা যুবলীগ নেতা মিরন সরদার মিলে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বার্থী ও খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালুর ব্যাবসা করে আসছিল।

ওই ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মামুন প্যাদা ও তার স্ত্রীর বড়ভাই যুবলীগ নেতা সোহরাব হোসেন বেপারীর সাথে সম্প্রতি রাসেলদের বিরোধ শুরু হয়। এ বিরোধের জের ধরে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর বেইলীব্রিজ নামক স্থানে বসে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মামুন প্যাদা ও সোহরাব হোসেন বেপারীর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন যুবক লাঠিশোটা, ধারালো অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে রাসেল হাওলাদার ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়।

রাসেলের সহযোগীরা এ সময় পাল্টা হামলা চালালে উভয় গ্রুপ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে সময় সেখানে একটি হাত বোমার (ককটেল) বিস্ফোরন ঘটে। সংঘর্ষে রাসেল হাওলাদার (২২), তার মা, শেফালী বেগম (৫৫), তার সহযোগী খলিল খোন্দকার, যুবলীগ নেতা সোহরাব হোসেন বেপারী (৩৫), তার চাচা সোহাগ বেপারী (২৫), সহযোগী সাইদুল বেপারী (২৮) আহত হয়। গুরুতর আহত সোহরাব হোসেন বেপারীকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও শেফালী বেগম এবং সোহাগ বেপারীকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলায় আহত সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও বালুর ব্যবসায়ী মোঃ রাসেল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা মামুন প্যাদা ও সোহরাব হোসেন বেপারী সম্প্রতি তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদার টাকা না দিলে তাদের বালুর ব্যবসা চালাতে দেয়া হবেনা বলে হুমকী দেয়।

এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মামুন প্যাদা ও সোহরাব হোসেন বেপারীর সাথে তাদের ঝগড়াঝাটি হচ্ছিল। এর জের ধরে মামুন প্যাদা ও সোহরাব হোসেন বেপারীর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন যুবক লাঠিশোটা, ধারালো অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

পাল্টা অভিযোগ করে যুবলীগ নেতা মামুন প্যাদা বলেন, তার স্ত্রীর বড়ভাই যুবলীগ নেতা সোহবাব বেপারী রাসেলদের বালুর ব্যবসার একজন অংশিদার। কিন্তু রাসেল তাকে কোন হিসাব দিচ্ছেনা। এমনকি ব্যবসার লাভের টাকাও দিচ্ছেনা। এ নিয়ে দেন দরবার করায় তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, থানা পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা (ককটেল) উদ্ধার ও বিস্ফোরিত বোমার (ককটেল) আলামত উদ্ধার করেছে। এ্ঘটনায় উভয় পক্ষ বিকেলে থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

 


ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।