আইসিইউ এর অভাবে ঘটছে রোগীদের করুণ মৃত্যু


Published: 2020-04-29 12:34:09 BdST, Updated: 2020-06-03 06:25:41 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ গোটা বিশ্বে করোনা আতঙ্ক বিরাজমান। এই ভাইরাস মোকাবিলায় দেশে-দেশে গ্রহণ করা হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। আতঙ্কের ফলে বাড়ছে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবার জটিলতা। দেশে বর্তমানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) সাপোর্ট না পেয়ে বেশির ভাগ রোগীর করুণ মৃত্যু ঘটছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, দেশে করোনার বাইরে প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগীর আইসিইউয়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে আছে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০টি আইসিইউ বেড। যাদের আইসিইউ সেবা প্রয়োজন তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ রোগীই প্রাণ হারাচ্ছেন।

এখন চলমান পরিস্থিতির কারণে সব রোগীকেই করোনা মনে করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ মুক্ত সার্টিফিকেট ছাড়া ভর্তি নিচ্ছে না অধিকাংশ হাসপাতাল। এক্ষেত্রে আইসিইউ বেড খালি থাকলেও ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না করোনা আতঙ্কে। এমন অবস্থার মধ্যে আইসিইউ যে কত প্রয়োজন তা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করছেন রোগী, অভিভাবকসহ সবমহল।

বিগত দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আইসিইউ বাড়ানোর জন্য মুখে ফেনা উঠালেও কেউ কথা শোনেননি। চোর শোনে না ধর্মের কাহিনী—এমন অবস্থা। এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে, অনভিজ্ঞতা ও নিয়মনীতি না মানার কারণে স্বাস্থ্য প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকরা এর জন্য দায়ী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাব মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে না। অনতিবিলম্বে সব জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ চালু করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঝালকাঠি সদরের রওশন আরা বেগম (৬৫) ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স-এর সমস্যা নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ভর্তি হন রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের নয়া পল্টন শাখায়। হাসপাতালের ৫০৭ নম্বর কেবিনে আছেন তিনি। চিকিত্সা চলাকালে দুই দিন আগে রওশন আরা বেগমের নিউমোনিয়া ধরা পড়ে।

এরপর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রওশন আরা বেগমের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানোর জন্য তার স্বজনদের বিভিন্নভাবে বল প্রয়োগ করতে থাকে। রওশন আরা বেগমের ছেলে মাহমুদ রিয়াদ এ বিষয়ে ওই দিনই আইইডিসিআর-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

কিন্তু গতকাল পর্যন্ত আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে রোগীর নমুনা সংগ্রহের জন্য কেউ ওই হাসপাতালে যায়নি। রোগীর অভিভাবকরা আইসিইউ ব্যবস্থা রয়েছে রাজধানীর এরকম বেশ কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সব হাসপাতালই করোনামুক্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত রোগীকে ভর্তি করাতে নারাজ।

সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীর মা গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। তবে কোভিড-১৯ সন্দেহে ওই রোগীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে রাস্তায় সন্তানের কোলে মায়ের করুণ মৃত্যু হয়।

এনেসথেসিওলজিস্টরা জানান, আইসিইউয়ের রোগীদের অন্য জায়গায় রাখা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব তাদের আইসিইউতে রাখতে হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩২ বেড থেকে বাড়িয়ে আইসিইউ বেড করা হয়েছে ৪৮ বেডের। তারপরও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের আবেদন করে আইসিইউয়ে বেড পেতে তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, সব হাসপাতালেই ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। আর করোনা রোগীদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রত্যেকটি রোগীকে চিকিত্সা দিতে হবে। হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য পৃথক কর্নার রাখতে হবে। যাতে কোনো রোগী চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ডা. মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, আইইডিসিআরের কাছ থেকে করোনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া খুবই কঠিন। একটি ফলাফল পাওয়ার জন্য তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যায়। আর রিপোর্টের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত চিকিত্সা শুরু হয় না। অর্থাত্ এই তিন থেকে চার দিন চিকিত্সাসেবা বঞ্চিত হয় রোগী। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। করোনা পরীক্ষা যারা করতে পারবে তাদের করার অনুমতি দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর নামিদামি বেসরকারি হাসপাতালগুলো কোটি কোটি টাকা আয় করছে। অথচ এই করোনা সংকটকালে তারা কোভিড-১৯ রোগীর জন্য ১০০ বা ২০০ বেড ছেড়ে দিতে পারে না? অনেকে মুখে মুখে ছেড়ে দিতে রাজি বললেও সত্যিকার অর্থে রাজি নয়।

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।