ইবিতে ৫০ হাজার, ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ লাখে ভর্তি!


Published: 2017-12-08 20:50:06 BdST, Updated: 2018-10-17 11:56:55 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে দুই অফার দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ লাখ টাকায় ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। তবে ওই অফার দেয়া হচ্ছে জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে। চক্রটি ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছে। আবার ওই ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে প্রক্সির মাধ্যমেও ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাতিলকৃত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় প্রক্সির দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ দুই প্রক্সিবাজকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৫০ টাকা চুক্তিতে প্রক্সির মাধ্যমে ইবিতে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। ওই চক্রের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র জড়িত বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আটকরা হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী ফেরদৌস হাসান জয় (২৩) এবং যশোর এম এম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সাব্বির রহমান (২১)।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে দায়িত্বরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এসোসিয়েট প্রফেসর নাসিমুজ্জামান, বাতিলকৃত মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষার দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষায় অংশ নিতে আসে ওই দুই প্রক্সিবাজ। পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় প্রবেশপত্রের সাথে তাদের চেহারার মিল না থাকায় থাকায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদে তাদের কথায় অসঙ্গতি দেয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা প্রক্সির কথা স্বীকার করে। পরে ওই দুই জনকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদে তার ৫০ হাজার টাকার বিনেময়ে প্রক্সি দিতে আসার কথা স্বীকার করে। ফেরদৌস হাসান জয় নাটোরের জিউপাড়ার ফিরোজ আহমদের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন। ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে দেবাশীষ সরকারের (রোল:১০০৯৯) হয়ে পরীক্ষা দিতে আসেন। এছাড়া সাব্বির রহমান যশোরের বাঘারপাড়া থানার পুকুরিয়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে। সাব্বির শৈলকুপার তন্ময় রহমানের (রোল:১০০৪৫) হয়ে পরীক্ষা দিতে আসেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ থেকে চার লাখ টাকায় ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভর্তি পরীক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসাধুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ছয় পরীক্ষার্থীসহ ১৪জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছে জালিয়াত চক্র। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তারা ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর বাইরে থেকে বলে দেন।

গোয়েন্দা পুলিশের ওসি অশোক কুমার সিংহ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটকরা হলেন- নেত্রকোনার মো. আফতাব উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, কক্সবাজারের জাফর আলমের ছেলে মো. ইসতিয়াক আহমেদ, কুড়িগ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিল্টন ও মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. মজনু রহমান, সিরাজগঞ্জের এম. আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. জুবায়ের আলম ও মো. আব্দুল মতিনের ছেলে মো. আবু জোবায়ের মামুন, টাঙ্গাইলের মো. জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. শাহিন আলম জনি, মো. দেলুয়ার হোসেনের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান আহাদ, মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. বাবলু মিয়ার ছেলে মো. নাইবুর রহমান, কুষ্টিয়ার মো. রাশেদুল ইসলামের ছেলে রাফাত বিন রাশেদ, মানিকগঞ্জের মো. আবুল কালাম আজাদের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান, ময়মনসিংহের মো. খোকন মিয়ার ছেলে মো. মাসুদ মিয়া ও গাজীপুরের বাবুল পালের ছেলে প্রদীপ পাল।

ওই চক্রের অন্যতম হোতা আব্দুল্লাহ আল মামুন পুলিশকে জানিয়েছেন, তিন থেকে চার লাখ টাকা চুক্তিতে তারা ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের বাইরে থেকে উত্তর বলে দিতেন।

ঢাকা, ০৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।