দেড় লাখের বিনিময়ে ইবিতে ভর্তির প্রলোভন! আটক ১


Published: 2019-12-30 16:44:40 BdST, Updated: 2020-04-06 22:05:20 BdST

ইবি লাইভ: দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সাদ্দাম হোসেন নামের এক জালিয়াতি চক্রের সদস্যের বিরুদ্ধে। ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে সাদ্দামকে আটক করেছে ইবি থানা পুলিশ।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জহুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত রবিবার রাতে আসামীর কাছ থেকে ৮২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। টাকা ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে ফেরত দেয়া হয়েছে। আটককৃত ঐ আসামির বিরুদ্ধে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার তাকে কোর্টে উঠানো হবে।’

জানা যায়, জালিয়াতি চক্রের সদস্য সাদ্দাম হোসেন ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ড উপজেলার ভায়না গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। সে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকে (সম্মান) পড়াশুনা করেছেন। সাদ্দাম ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থীকে অপেক্ষমান তালিকা থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি করে দেয়ার আশ্বাস দেয়।

প্রথম ধাপে গত ২২ নভেম্বর বিকাশের মাধ্যমে দশ হাজার টাকা নেয় সে। এরপর আবারো সেই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা নেয় সাদ্দাম। কিন্তু ভর্তিচ্ছু ওই শিক্ষার্থী অপেক্ষমান তালিকা থেকে প্রক্রিয়াগতভাবে সোস্যাল ওয়ার্ক বিভাগে ভর্তির সুযোগ পায়। তখন সাদ্দামের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারে ওই শিক্ষার্থী।

এরপর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মুঠোফোনে অপহরণের হুমকি দেয় সাদ্দাম। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে পড়তে দিবেনা বলেও হুমকি দেয় সে। পরবর্তিতে হুমকির বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীর মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণকে জানান। তিনি পুলিশের সহযোগীতায় সাদ্দামকে আটক করতে সক্ষম হন। এই জালিয়াতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক ঊর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তি শিক্ষকের নামও ব্যবহার করে সাদ্দাম। ফলে ওই শিক্ষার্থী টাকা দিতে রাজি হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে আমি খুব হতাশ হয়ে পড়ি। হতাশার কথাগুলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক বন্ধুর সাথে শেয়ার করি। সে আমাকে সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেয়। আমি আইনে ভর্তি হতে চাই। কিন্তু সাদ্দাম প্রথমে বাংলায় ভর্তি হয়ে পরে মাইগ্রেশন করে আইনে ভর্তি করে দেয়ার আশ্বাস দেয়। ভর্তির বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা দিতে হবে তাকে। আমি দুই দফায় ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে তার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি। পরে টাকা দিতে অস্বীকার করলে বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে সে। পরে বিষয়টি প্রক্টর স্যারকে জানাই।’

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা জানান, ‘প্রথমে আমি টাকা দিতে চাই নি। কিন্তু মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে টাকা দেই। প্রতারণা বুঝতে পেরে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। সাদ্দামের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ‘ঘটনাটি অবগতির পর গত ২২ তারিখ থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগীতায় চেষ্টা চালিয়েছি। পরে গত শনিবার তাকে আটক করতে সক্ষম হয় ইবি থানা পুলিশ। আমরা ঘটনাটির খুব গভীরে অনুসন্ধান চালাবো। পুরো চক্রকে আটকের চেষ্টা থাকবে।’


ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।