"আগামী বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম"


Published: 2019-05-12 19:24:22 BdST, Updated: 2019-07-19 21:12:24 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: আগামী বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে এ কার্যক্রমে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

রবিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এমন কথা বলেন। এ সময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহামুদ উল হক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মহিবুল হাসান বলেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হবে। এতে করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্মম কষ্ট ও ভোগান্তি লাঘব হবে। পাশাপাশি সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে এই প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আসবে।

উপমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে এখনও যারা বাধা সৃষ্টি করছেন বা নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন, তাদের সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে। কোনো প্রতিবন্ধকতাকে গুরুত্ব দেয়া হবে না বরং তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ইউজিসির সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছি। তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে বৈঠক করব। কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা যায় তা আলাপ-আলোচনা করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হবে।

তিনি বলেন, কেউ যেন প্রতারণার আশ্রয় না নিতে পারে সে জন্য একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনেক পরিবর্তন এনেছি আমরা। প্রথমবারের মতো অভিভাবকের ন্যাশনাল আইডি কার্ডের পিন নম্বর বাধ্যতামূলক করেছি। এরপরও যদি কেউ প্রতারণা করে তাহলে তাকে দমন করার জন্য আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যেন প্রতারণা ও ভোগান্তির শিকার না হয় সে ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রণালয় সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে নওফেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে আমরা অনেক দূর আলোচনা এগিয়ে রেখেছি। এ বছর না হলেও তার পরের কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করব।

একাদশ শ্রেণিতে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রমের উদাহরণ দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার কথা বলেন তিনি। এ বছর টানা পঞ্চমবারের মতো অনলাইনে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম চালাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে একাদশ শ্রেণিতে অনানুষ্ঠানিক ভর্তি কার্যক্রম শনিবার মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়েছে। রাত ১২টার পর থেকে অনলাইনে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আবেদন করতে পেরেছে শিক্ষার্থীরা। আবেদন করা গেছে এসএমএসের মাধ্যমেও।

ভর্তির জন্য আবেদনকারীর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর এবার বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। ২০১৭, ১৮ এবং ১৯ সালে যারা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে তারাই এবার ভর্তি হতে পারবে। মোট আসনের অতিরিক্ত পাঁচ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন, তিনটি ধাপে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে জিপিএ-৫ ও জিপিএ-৪ প্রাপ্তি প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে। বাকিরা তৃতীয় ধাপে ভর্তির সুযোগ পাবে। কেউ ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না।

উল্লেখ্য, একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে ২৩ মে পর্যন্ত চলবে। ৩০ জুনের মধ্যে ভর্তি শেষ হবে। তিনটি ধাপে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে। আগামী ১ জুলাই সারাদেশে একযোগে ক্লাস শুরু হবে।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে চার হাজার ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ লাখ আসন রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা বোর্ডের দুই হাজার ৭৬৩টি প্রতিষ্ঠানে তিন লাখ আসন রয়েছে।


ঢাকা, ১২ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।