পরীক্ষা ছাড়াই ভিকারুননিসায় ভর্তির অভিযোগ


Published: 2019-03-15 16:10:59 BdST, Updated: 2019-07-18 17:59:55 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করানোর অভিযোগ উঠেছে। চূড়ান্ত রেজাল্ট তালিকায় নাম না থাকার পরেও ভর্তি করা হয়েছে। লাখ টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্য ভর্তি করানো হচ্ছে। অন্যদিকে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলা ভার্সনে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল এক শিক্ষার্থী। এখন ভার্সন পরিবর্তন করে যেতে চায় ইংলিশে। কিন্তু যেতে পারছে না। কারণ ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ঘুষ দিতে পারেননি।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়মের মধ্যে না থাকায় তাকে পরিবর্তন করতে দেয়া হবে না। দু’টি ঘটনাই ঘটেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখায়। তবে এ নিয়ে কেউ দায় নিতে চাননি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হাসিনা বেগম বলেন, এ ধরনের ভর্তি হয়ে থাকে চাপের মুখে। তাই এ দায় তার নয়। গভর্নিং কমিটির সিদ্ধান্তে উপর ভর্তি করানো হয়। তাই গভর্নিং কমিটির সিদ্ধান্তে সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো ধরনের ভর্তি বা ট্রান্সফার সম্ভব নয়। অন্যদিকে পরিচালনা কমিটির শীর্ষ ব্যক্তিও এ ধরনের ঘটনার দায় নিতে চান না। তিনি বলেন, চান্স না পেয়েও ভর্তি হয়েছেন এটা যাচাই করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

ভিকারুননিসায় ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেখানে ১৯ জন ছাত্রীর তালিকা টাঙানো হয়। সেখানে নাম না থাকা সত্ত্বেও ভর্তি করা হয়েছে এক ছাত্রীকে। কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ভর্তি করানো হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ছাত্রীটি উইল্‌স লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে টিসি নিয়ে এসে ভর্তি হয়। সংসদীয় কমিটির কাছে দেয়া অভিযোগে ওই ছাত্রীর টিসি’র কপি ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রেজাল্ট শিটের তালিকা সংযুক্ত করা হয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এর ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার জানান, রেজাল্ট তালিকায় নাম না থাকার পরেও ভর্তির বিষয়টি আগে থেকে জানতাম না। আজ শুনলাম।

গভর্নিং কমিটির বিরুদ্ধে শিক্ষা সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ আবদুল মজিদ।

অভিযোগে তারা জানান, বর্তমান গভর্নিং কমিটি অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচন না দিয়ে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড হতে ৩-৬ মাসের মেয়াদ বাড়িয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে আরও ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ প্রদান করতে পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। ২০১৭-২০১৮ ও ২০১৮-২০১৯ সালে প্রচুর অবৈধভাবে ভর্তি বাণিজ্য হয়েছে।

এতে বলা হয়, যেখানে একটি ক্লাসে ৫০-৬০ জন ছাত্রী থাকার কথা সেখানে বর্তমানে ১০০-১১০ জন ছাত্রী ক্লাস করছে। যা একজন শিক্ষকের পক্ষে কোনোভাবেই শিক্ষাদান করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাও শিক্ষা গ্রহণে হচ্ছে অমনোযোগী।

 


ঢাকা, ১৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।