ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে ইবি শিক্ষকের বিস্ময়কর সাফল্য


Published: 2019-07-05 15:20:31 BdST, Updated: 2019-09-22 06:18:30 BdST

ইবি লাইভ: তাল ও ওলকচু ডায়াবেটিস প্রতিরোধে যাদুকরী গুণসম্পন্ন। ডায়াবেটিসের মাত্রা খুব বেশি না হলে তাল এবং ওলকচু তা স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসতে সক্ষম। এমনকি ডায়াবেটিক্স চরম মাত্রায় পৌছালেও তাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে আমাদের অতি পরিচিত তাল এবং ওলকচু।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগে বিগত কয়েক বছরব্যাপী এক গবেষনায় এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়। বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর শেখ শাহীনুর রহমান তার পিএইচডি গবেষণায় এ বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হন।

তিনি জানান, “তাল উপমহাদের একটি জনপ্রিয় খাবার। কচি তালের শাঁস, পাকা তালের রস এবং অংকুরিত তালের আঁটির ভেতরের সাদা শাঁস বাংলাদেশ সহ এশিয়ার অনেক দেশে একটি জনপ্রিয় খাবার। ফলটি সুস্বাদু ও পুষ্টি সমৃদ্ধ হলেও খাদ্য কুসংস্কারের কারনে অনেক ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি পাকা তালের রস অথবা এর শাঁস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। এছাড়াও মাটির নিচে উৎপাদিত সবজি খাওয়া নিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে ভীতি কাজ করে। তাই আমাদের দেশীয় এবং সহজলভ্য এদুটি বিষয়কে গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরো জানান, পাকা তালের রস, কচি তালের শাঁস, অংকুরিত তালের আটির ভেতরের সাদা অংশ এবং ওল কচুতে প্রচুর পরিমানে পুষ্টি গুণ ফাইটোকেমিকেল থাকায় উপাদান দুটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এর মধ্যে পাকা তালের রস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সক্ষম না হলেও স্থিতাবস্থায় রাখে। তবে কচি তালের শাঁস ও অংকুরিক তালের শাঁস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে অধিক পরিমান সক্ষম। এদিকে আমাদের সমাজে ডায়াবেটিস রোগীকে মাটির নিচের কোন জিনিস ক্ষেতে দেওয়া হয় না।

কিন্তু ওলকচু মাটির নিচে উৎপাদিত হলেও এতে অ্যান্টি ডায়াবেটিস রোল আছে। এতে প্রচুর পরিমান ফাইটোকেমিক্যাল ও পুষ্টিগুণ থাকায় ডায়াবেটিক্স প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি এ দুটি উপাদান পরিমিত মাত্রায় খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মনে করেন গবেষক শাহিনুর রহমান।

জানা যায়, এই অনবদ্য গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৫তম সিন্ডিকেট সভা শেখ শাহীনুর রহমানকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করেন। গবেষণা প্রকল্পটির কো-সুপারভাইজার এবং সুপারভাইজার হিসেবে ছিলেন একই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম এবং প্রফেসর ড. শেখ মো. আব্দুর রউফ।

ভবিষ্যতে গবেষনায় নিজের পরিকল্পনা ব্যক্ত তরে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর শেখ শাহীনুর রহমান বলেন, “অদূর ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি উদ্ভিতজাত উপাদানের সংমিশ্রণে একটি কার্যকর ডায়াবেটিস নিরাময়ে সক্ষম খাদ্য উপাদান তৈরির নিমিত্তে গবেষণা প্রকল্প চালিয়ে যাবো। এ গবেষণার জন্য ইতিমধ্যে বিভাগে এনিমাল হাউস স্থাপন করা হয়েছে। উপযুক্ত ফান্ড পেলে গবেষণার মান এবং পরিধি বাড়ানো সম্ভব।”

ঢাকা, ০৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।