আকিবের হিউম্যানয়েড রোবোট, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অর্জন


Published: 2019-11-14 14:51:43 BdST, Updated: 2019-12-13 08:46:49 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ হিউম্যানোয়েড রোবট সোফিয়ার কথা নিশ্চই সবার মনে আছে। বিশ্বের প্রথম এই হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করে হংকংয়ের হ্যানসন রোবোটিকস। ব্রিটিশ অভিনেত্রী অড্রে হেফবর্নের অনুকরণে তৈরি করা হয় সোফিয়াকে।

না বিদেশী কোন রোবট এর গল্প নয়, এবার জানাবো বাংলাদেশে তৈরী তরুণ শিক্ষার্থী আহসানুল আকিব এর তৈরী হিউম্যানোয়েড রোবট “বঙ্গ” এর কথা। যা সে ২০১৮ সালের অক্টবরে প্রথম ভার্সন হিসেবে তৈরি করে তখন রোবোট টির নাম ছিল “মিক”। তারপর রোবোট টি সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন রুপ পায়। তারপর সে আরো একটি রোবট তৈরি করে যা “এডু বট” নামে পরিচিত।

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বিইউবিটি'র তরুণ একজন শিক্ষার্থী আহসানুল আকিব, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়াকালীন সময়ে “রোবট বঙ্গ” নামে একটি হিউম্যানোয়েড রোবট বানিয়েছেন। তার টিমে আরো আছেন হোসাইন খন্দকার, শান্ত ইসলাম,জাহিদুল ইসলাম,ইমরান ও শাকিল।

বিইউবিটি ইউনিভার্সিটি এই রোবোট তৈরিতে আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকে এবং সেই সাথে ইউনিভারসিটির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ডক্টর এম আমির আলী (পি,এইস,ডি অস্ট্রেলিয়া) এই রোবোটি তৈরিতে নির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করে।রোবটটি বাংলায় কথা বলতে ও বাংলায় প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে পারে, এছাড়া, কোন কিছু ধরতে সক্ষম এই রোবটটি। রোবট টি গানিতিক কিছু সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম যেমন যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ। রোবট টি তার ২ হাতের ১০ টি আঙ্গুল দিয়ে কাজ করতে সক্ষম।

রোবোটটি বাংলাদেশেই প্রাপ্য সাধারন কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি। রোবোটের বডিতে ব্যবহার করা হয়েছে এ্যালুমিনিয়াম ধাতব। রোবোটের হাত ও মাথা থ্রিডি প্রিন্টের মাধ্যমে করা হয়েছে। রোবোটটি মাত্র তিন মাসের মাথায় আকিব তার টিম সহ তৈরি করে। প্রথম পর্যায়ে রোবোটটির নাম রাখা হয়েছিল মিক। পরে আন্তর্জাতিন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায়, বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য এর নাম রাখা হয় বঙ্গ।

“এডু বট” রোবট টি বাংলায় ছড়া কবিতা বলতে পারে, নাচতে পারে, প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। অংক করতে পারে। নামতা বলতে পারে। রোবট টি মুলত সে শিশুদের জন্য বানিয়েছে যাতে খেলার ফাকে শিশুরা শিখতেও পারে ।

“এডু বট” রোবোট নিয়ে সম্প্রতি ১৬ অক্টবর আকিব “স্টুডেন্ট টু স্টার্টাপ চ্যাপ্টার” ২ তে সারা বাংলাদেশ থেকে আগত ২৫০০ টি টিমের মধ্যে জয়ী হয় এবং বাংলাদেশে প্রথম বারের মত দেওয়া “বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন এওয়ার্ড” প্রাপ্ত হয় এবং সেই সাথে সে ১০ লক্ষ টাকা উপহার প্রাপ্ত হয়।

১০ লক্ষ টাকা উপহার

 

১৬ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার, “বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট” স্টার্টআপদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০১৯ এর সমাপনী অনুষ্ঠান ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁয়ে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহ্মেদ পলক এমপি।

আকিব ইন্ডিয়ার একটি রোবোটিক্স প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতাটির নাম ইউরেকোন '১৯ যা ফেব্রুয়ারী মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়। আকিব তার টিম সহ “রোবট বঙ্গ”কে নিয়ে প্রতিযোগিতাটিতে অংশ নেয় এবং সেখানে সে চ্যাম্পিয়ন হয়।

রোবোটটি নিয়ে আকিব রিসার্স পেপার লিখা শুরু করে। আই, সি, এ, এস, ই, আর, টি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে তার রিসার্স পেপারটি পাঠানো হয় এবং সেখানে তার পেপার গ্রহণ করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সটি এই বছরের মে মাসে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে রিসার্সার ও সাইন্টিস্টরা আসেন।

একই সাথে ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইস্টার্ণ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত আই, সি, আই, ই, ভি আন্তর্জাতিক সমাবেশে আকিব রোবোট বঙ্গকে তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কনফারেন্সে প্রায় ২০ টি দেশ অংশগ্রহণ করে। তারা হচ্ছে জাপান, থাইল্যান্ড, চায়না, জার্মানী, ব্রাজিল, মালেশিয়া, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, কানাডা, ইরাক, পাকিস্তান ইত্যাদি। প্রায় ৩ দিন ব্যাপী এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও টেকনোক্রেসি' ১৯ নামে একটি রোবোটিক্স কম্পিটিশন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি অব ইন্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলোজি (রুয়েট) এ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে আকিব তার রোবোটকে নিয়ে প্রযেক্ট শো-কেজ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে এবং সেখানে সে ৩৭ টি টিমের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় ৷

আকিব কলেজে পড়া অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করত। ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পূর্বেই সে ড্রোন তৈরি করে। তার তৈরি অনেক ড্রোন রয়েছে যেমন রেসিং ড্রোন, ভিডিওগ্রাফী ড্রোন ইত্যাদি। এছাড়া ভার্সিটিতে পড়া অবস্থায় সে ওয়াটার গার্বেজ ক্লিনার রোবোট, রুম ক্লিনার রোবোট, হাতের ইসারায় হুইল চেয়ার, রোবোটিক আর্ম ইত্যাদি তৈরি করে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সে অনেক এ্যাচিভমেন্টও অর্জন করেছে ৷

সে জাপান বাংলাদেশ রোবোটিক্স ও এ্যাডভান্স টেকনোলোজি রিসার্স সেন্টারের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে আছে। সে প্রতি বছর বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে রোবোটিক্সের ওয়ার্কশপও নিয়ে থাকে।

এখন তার নিজস্ব একটি রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে নাম “রোবোটেক ভেলি"। প্রতিষ্ঠানটিতে রোবোটিক্সের ট্রেনিং করানো হয় বেসিক টু এ্যাডভান্স। সেখানে রোবোট রিসার্স ল্যাব আছে। সেখানে তারা এখন বিভিন্ন রোবোট ডেভলোপ করে।

তার স্বপ্ন এখন উন্নত রোবোট বানানো যা দেশের মানুষের উপকারে আসবে। এবং বাংলাদেশ সরকার থেকে পওয়া স্টার্টআপের ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে অধিক সংখ্যক “এডু রোবট” বানিয়ে বাজারে নিয়ে আসা।

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।