নতুন বছরে যে সব প্রযুক্তি ও ডিভাইস আসছে


Published: 2019-01-04 19:49:27 BdST, Updated: 2019-01-19 19:23:46 BdST

আইটি লাইভ: প্রযুক্তিতে অধুনিক বিশ্বের প্রতিযোগিতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইলেক্ট্রিক ডিভাইসগুলোর সহায়তায় প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে মানুষের সকল কাজেই। এক কথায় বলা যায় যে, মানুষ এখন প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে অনেকটাই।

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের নতুন বছর ২০১৯ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। অনেকেই মনে করেন ২০১৯ হবে প্রযুক্তির জন্য আশীর্বাদ বছর।

এ বছরে বিশ্ববাসী প্রযুক্তির নানা সুবিধা এবং কল্যাণকর দিক উপভোগ করবেন বিশ্বব্যাপী আরও ব্যাপকতা পাবে তথ্য প্রযুক্তি পণ্যের ব্যাবহার। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি ও নতুন সব ডিভাইসে বছরকে করে তুলবে স্মরণীয়।

নতুন এ বছরে বেশকিছু প্রযুক্তিসেবা ও ডিভাইস বাজারে আসতে পারে। নতুন কী আসছে? কেমন হবে ২০১৯ সাল প্রযুক্তি খাত?

ফাইভজি: মোবাইল ফোনের পঞ্চম প্রজন্মের ইন্টারনেটকে সংক্ষেপে ফাইভজি ডাকা হয়; ৫জির সময়ে নতুন এমন পৃথিবীর দেখা মিলবে যেখানে শুধু সব মানুষ-মানুষে নয় বিশ্বের সব যন্ত্রপাতি-জিনিসপত্রও সবাই সবার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। প্রযুক্তির এই পঞ্চম প্রজন্মে বেশিরভাগ মানুষ মোবাইল ফোনেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। ২০১৯ সালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে সামনে আসবে ফাইভজি ইন্টারনেট।

দ্রুতগতির এই ইন্টারনেটের কারণে বদলে যাবে আরও অনেক প্রযুক্তি। নতুন বছরের মার্চের মধ্যেই অনেক দেশ ফাইভজি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে অনেক দেশ। বাংলাদেশও ইতিমধ্যে ফাইভজি টেস্ট সম্পন্ন করেছে।

ড্রাইভারহীন গাড়ি: বিশ্বব্যাপী অনেক দেশেই চালকবিহীন গাড়ি চলছে, অনেক নির্মাতা কোম্পানি ইতিমধ্যেই স্বচালিত গাড়ি তৈরিতে মনোযোগী। আর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ২০১৯ সালে স্বচালিত এই গাড়ির জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।

রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবারসহ অনেকেই এরই মধ্যে এ খাতে অর্থলগ্নি করছে। যদিও এরই মধ্যে চালকবিহীন এ গাড়ির কয়েকটি দুর্ঘটনার খবর চড়িয়েছে। তাই অনেকেই মনে করেন ২০১৯ সালে কমপক্ষে তিনটি দেশে প্রযুক্তির অপূর্ণতা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের কারণে- স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং ফর্মগুলো নিষিদ্ধ বা সীমিত করবে।

ফাইভজি স্মার্টফোন: বিশেষজ্ঞরা বলছেন যুগান্তকারী ৫জি- প্রযুক্তির সুবিধাগুলো পেতে মালিক হতে হবে ৫জি সমর্থন করতে পারে এমন একটি স্মার্টফোনের। হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোও ৫জি আসার আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে।

শুধু ফাইভজি ইন্টারনেট চালু করলে তো আর হবে না। কারণ সেটার ব্যবহার করতে হবে। আর বেশিরভাগ স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। অ্যাপল, স্যামসাং, গুগোল, এলজি, ওয়ানপ্লাসের মতো প্রতিষ্ঠান শিগিররই তাদের ফাইভজি ডিভাইস প্রদর্শন করবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

স্মার্টহোম: বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, শুধু বাইরের জগৎই নয়, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মানুষের ঘর-গৃহস্থালিতেও পরিবর্তন আসবে। স্মার্টবাড়ি বা প্রযুক্তিনির্ভর ঘরবাড়ির ধারণা শুরু ১৯৮০ সালে হলেও অনেকের কাছেই এই স্মার্টহোমের ধারণাটি এখনও অস্পষ্ট।

ইন্টারনেট অব থিংকস ব্যবহার করে স্মার্টহোম ধারণা কিছুটা পুরাতন হলেও ফাইভজির কল্যাণে সারা বিশ্বে এটি বাড়তে থাকবে। দ্রুতগতির এ নেটওয়ার্কের ফলে বাসাবাড়ির লাইট, ফ্যান, দরজা, পানির কলসহ অন্যান্য কিছু নিয়ন্ত্রণ হবে পৃথিবীর যে কোনো স্থান থেকেই। ফলে এ স্মার্টহোম বিষয়টি নতুন বছরে আরও বাড়বে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ফোল্ডেবল ফোন: নতুন বছরে আসছে ফোল্ডেবল ফোন। যদিও ফোল্ডেবল ফোন চলতি বছরে বাজারে এনেছে একটি প্রতিষ্ঠান। রয়োল কর্পোরেশন নামের প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে ফোনটি আনলেও স্যামসাং, এলজির মতো প্রতিষ্ঠান নতুন বছারেই ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে হাজির হবে। মাইক্রোসফটও এ বছরেই ফোল্ডেবল ফোন আনতে যাচ্ছে। প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ঘোষণা দিচ্ছে, তাতে ২০১৯ স্মার্টফোনের বাজার মাতাবে ফোল্ডেবেল ফোন।

আচরণগত বায়োমেট্রিক্স: ধারণা করা হচ্ছে ২০১৯ সালে স্মার্টফোনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যোগ করা হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিস স্ক্যান ব্যবহার করে একটি ফোন আনলক করা এখন সাধারণ ব্যাপার। নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য আরও বেশি কিছু করা উচিত বলে মনে করেন সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা। কারণ চিকিৎসা রেকর্ড এবং ফোনে বড় আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে।

গবেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, “আচরণগত বায়োমেট্রিক্স” নামক সিকিউরিটি একটি নতুন স্তর যোগ করবে, ফোনটি টাইপ, স্ক্রোল বা কথোপকথনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে চিনতে পারে ফোনটি শনাক্ত করতে পারে।

প্লেস্টেশন ৫: ভিডিও গেইমারদের জন্য সুখবর দিয়েছে সনি। নতুন বছরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লেস্টেশন ৫ বাজারে ছাড়তে পারে। তবে সনির নতুন ওই ডিভাইসটি হবে আরও উন্নত সংস্করণের। ডিভাইসটিতে ৪কে এবং সেকেন্ডে ২৪০ ফ্রেইম আনা হবে যা প্লেস্টেশন ভিআর সমর্থন করবে বলে জানা যাচ্ছে। যা গেইমারদের জন্য অন্যতম একটি বছরও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বচালিত ট্রাক: আবর্জনা সংগ্রহ করতে ব্যবহার করা হবে স্বচালিত ট্রাক। আগামী বছরে অন্তত পাঁচটি প্রধান শহর স্বায়ত্তশাসিত রোবটিক্স ট্রাক ব্যবহার করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। আবর্জনা সংগ্রহের মতো ‘উপযোগবাদী কাজ’ সাধারণত যে কোনো এলাকার ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় প্রাভাব ফেলে।

তাই এই সয়ংক্রিয় ট্রাক অনেকটা সাহায্যকারী হবে বলেও মত দেন বিশেষজ্ঞরা। নির্মাতা কোম্পানি ভলভো ইতিমধ্যেই একটি স্বায়ত্তশাসিত আবর্জনা ট্রাক প্রস্তুত করেছে, যা রেনোভা কোম্পানির বর্জ্য অপসারণে কাজ করছে বলেও জানা যায়। সূত্র: যুগান্তর

 


ঢাকা, ০৪ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।