বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা


Published: 2018-09-21 10:07:31 BdST, Updated: 2018-10-16 01:50:50 BdST

আইটি লাইভ: বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সবচেয়ে বড় সিএসআর প্রোগ্রাম ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ এর সমাপনী সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১০টায় চীনের শেনজেনে হুয়াওয়ের প্রধান কার্যালয়ে এ সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাছাই করা ১০ জন আইসিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর এবং বাংলাদেশ সরকারের ‘ভিশন-২০২১’ এজেন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এসময় বক্তারা বলেন, এ বছর আয়োজিত সিডস ফর দ্য ফিউচার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সেই সাথে এই মেধাবীরাই সামনে এগিয়ে গিয়ে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুয়াওয়ের গ্লোবাল সিএসআর প্রধান হলি রানাইভোজানানি, ক্যামেরুনের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষার্থী সহায়তা বিভাগের সহপরিচালক বালা নি এনাইগুয়ে মিনকাদা এবং ক্যামেরুন, চাদ ও তুরস্কের আরও ৩০ জন শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হুয়াওয়ের কাস্টমার সল্যুশন ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে (সিএসআইসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয় ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১০ জন আইসিটি মেধাবী শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

চীনে নিয়ে যাওয়ার আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর সিএসআইসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয় হুয়াওয়ে বাংলাদেশ। গত ৭ সেপ্টেম্বর তারা চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে এবং ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের ঘুরে দেখানো হয় চীনের মহাপ্রাচীর ও ফরবিডেন সিটি।

এরপর ১১ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায় হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা চীনা সংস্কৃতি বিষয়ে ধারণা লাভ করে। শিল্পক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় শেনজেনে হুয়াওয়ের প্রধান কার্যালয়ে। সেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাথে অংশ নেন আরও চারটি দেশের শিক্ষার্থীরা।

সমাপনী অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ের গ্লোবাল সিএসআর প্রধান হলি রানাইভোজানানি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পেয়ে খুবই আনন্দিত। তারা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ এখন শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে। তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থকবে। হুয়াওয়ে তাদের পাশে সবসময় থাকবে। আমরা যে তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নত ও সংযুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন দেখি, এই শিক্ষার্থীরাই হবেন ওই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অগ্রপথিক।

আমরা আশা করছি চীন সফরে এসে শিক্ষার্থীরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে সেটা তাদের বাস্তব কর্মজীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। সিডস ফর দ্য ফিউচার সফল করতে যেসকল হুয়াওয়ের কর্মকর্তা পরিশ্রম করেছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ’

জানা গেছে, ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যকর করার অংশ, যা ২০০৮ সালে শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ১০৮টি দেশ ও অঞ্চলে সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রতিযোগিতা চালু হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ৩৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩,৬০০ শিক্ষার্থী হুয়াওয়ের হেডকোয়ার্টারে শিক্ষা সফরে গিয়ে হাতে কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য বিশ্বমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য নতুন নতুন আইসিটি মেধাবীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা।

ছবির ক্যাপশন: হুয়াওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে হুয়াওয়ের সদর দফতরে সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০১৮-এর চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

হুয়াওয়ে বিশ্বের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিতকরণ ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি উন্নত ও সংযুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলাই হুয়াওয়ের উদ্দেশ্য। গ্রাহক-কেন্দ্রিক নতুনত্ব এবং উন্মুক্ত অংশীদারিত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়ে হুয়াওয়ে একটি পরিপূর্ণ আইসিটি সমাধান পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠা করেছে।

হুয়াওয়ে বিশ্বব্যাপী ৫০০টিরও বেশি মোবাইল অপারেটরদের প্রায় তিন বিলিয়ন গ্রাহকদের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক পণ্য, সমাধান এবং সেবা প্রদান করে। ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্বের ১০০টি রাজধানী শহরে ৩৬০টি এলটিই বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক নির্মাণের মাধ্যমে হুয়াওয়ে টেলিকম শিল্পে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

অপারেটররা যাতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমিয়েও সর্বোচ্চ মানের নেটওয়ার্ক সেবা প্রদান করতে পারে, সেজন্য হুয়াওয়ে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তৈরি ও উন্নয়নে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে যা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার সমান।

এক লাখ ৮০ হাজার কর্মী নিয়ে ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে হুয়াওয়ে কাজ করে চলেছে। এই বিশাল সংখ্যক কর্মীরা বিশ্বব্যাপী টেলিকম অপারেটর, উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

 

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।