টাওয়ার সেবার লাইসেন্স পেতে ৮ আবেদন


Published: 2018-06-13 22:07:41 BdST, Updated: 2018-08-15 23:11:40 BdST

আইটি লাইভ: টেলিযোগাযোগ খাতের টাওয়ার সেবা দেওয়ার জন্যে লাইসেন্স পেতে শেষ পর্যন্ত আটটি কোম্পানি তাদের আবেদন জমা দিয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিনে একটি সরকারি কোম্পানিসহ কয়েকটি দেশী-বিদেশী যৌথমালিকানার কোম্পানি লাইসেন্সের লড়াইয়ে অংশ নিতে তাদের আবেদন জমা দিয়েছে।

সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের আগ্রহ সবাইকে বিস্মিত করেছে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা জানিয়েছেন, বিশ্বখ্যাত এটিসি-আমেরিকান টাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে স্থানীয় কোম্পানি কনফিডেন্স টাওয়ার যৌথ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। তারা শেষ পর্যন্ত তাদের আবেদন জমাও দিয়েছে। এর বাইরে বর্তমানে সেবা কার্যক্রমে থাকা একমাত্র টাওয়ার কোম্পানি ইডটকো আবেদন জমা দিয়েছে।

জনতা টাওয়ার নামে একটি আবেদন জমা দিয়েছে নেটওয়ার্ক কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোম। অপর নেটওয়ার্ক কোম্পানি সামিট কমিউনিকেন্স সামিট টাওয়ার লিমিটেড নামে আবেদন জমা দিয়েছে।

আবেদন জমা দেওয়া অন্য তিন কোম্পানি হল–এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম, বিডি টাওয়ার বিজনেস কোম্পানি কর্সোটিয়াম এবং এফটিএ বাংলাদেশ লিমিটেড।

এর আগে গত ১৩ মে আবেদনের শেষ দিন থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ১১ জুন করা হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, স্যাটেলাইট সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণেই সময় বাড়ানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুসারে চার কোম্পানিকে টাওয়ার কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া হবে। ’বিউটি কনটেস্টের’ মাধ্যমে দেওয়া হবে এই লাইসেন্স। ফলে কোনো রকম নিলাম বা টাকার লড়াই এখানে হবে না। বিউটি কনটেস্ট হলো, যে কোম্পানির প্রস্তাব যত ভালো হবে সেটিই লাইসেন্স পেতে যোগ্য বিবেচিত হবে।

আবেদন পাওয়ার পর থেকে যাচাই বাছাইয়ের জন্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বিটিআরসি। এর পর মূল্যায়ন শেষে সরকারের কাছে লাইসেন্স দেওয়ার জন্যে একটি সুপারিশসহ তালিকা পাঠাবে তারা। তারওপর ভিত্তি করেই লাইসেন্স দেওয়া হবে।

আবেদনকারীদের জয়েন্ট ভেঞ্চারের কোনো একটি কোম্পনির নূন্যতম পাঁচ হাজার সাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে। টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়া হলে তখন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কোনো নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে। তবে নিজেরা আর টাওয়ার ভাড়া দিতে পারবে না।

লাইসেন্স ফি ২৫ কোটি ও বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা ধার্য করেছে বিটিআরসি। আছে ২০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি।

এই কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ৭০ শতাংশ। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রথম বছর কোম্পানিটিকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।

দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার নিতে হবে।

নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক জনবল লাগছে টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষেণ। এ ছাড়া টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব রয়েছে। এসব কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে আনছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেবা নিয়ে থাকে তারা।

ফলে একই অবকাঠামো ভাগাভাগির মাধ্যমে তা থেকে সেবা পেতে পারে একাধিক অপারেটর। দেশেও তা অনুসরণ করা হবে।

নীতিমালা অনুসারে, লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানিকে আয়ের সাড়ে ৫ শতাংশ বিটিআরসি’র সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হবে। অন্যদিকে ১ শতাংশ দিতে হবে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।

 

ঢাকা, ১৩ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।