যে কারণে অ্যাপলের বিরুদ্ধে ৮ মামলা


Published: 2017-12-29 13:40:16 BdST, Updated: 2018-12-11 04:31:40 BdST

 

আইটি লাইভ: পুরনো আইফোনের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়ায় অ্যাপলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে আটটি মামলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এসব মামলা দায়ের করেন আইফোনের পুরনো সংস্করণ ব্যবহারকারীরা। খবর রয়টার্স।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে আইফোন জনপ্রিয় ডিভাইস। এসব ডিভাইস দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা গেলেও, কয়েক বছরের মধ্যে কর্মক্ষমতা কমে যায়। ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ করে আসছেন। অনেকের ধারণা, আইফোনের নতুন সংস্করণের বিক্রি বাড়াতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেই পুরনো ডিভাইসগুলোর কর্মক্ষমতা ধীরগতির করে দেয়া হয়।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে পুরনো মডেলের আইফোনের কর্মক্ষমতা বা গতি কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। এরপরই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।

বিবৃতিতে পুরনো আইফোনের কর্মক্ষমতা কমার বিষয়ে অ্যাপল জানায়, একটি আইফোন কয়েক বছর ব্যবহূত হলে ইচ্ছাকৃতভাবেই এর প্রসেসরের ক্লক স্পিড কমিয়ে দেয়া হয়। তবে কেন এমন করা হয়?

উত্তরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আইফোনের অ্যালগরিদম এমনভাবে সাজানো হয় যেন দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও ফোনের ব্যাটারি সন্তোষজনক কর্মক্ষমতা দেখাতে পারে। তবে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সফটওয়্যার হালনাগাদের ফলে একপর্যায়ে আইফোনের ব্যাটারি এবং প্রসেসর নতুনের মতো কর্মক্ষম থাকে না। আইফোন ব্যবহারকারীদের যাতে কোনো বাজে অভিজ্ঞতা না হয়, তাই নতুন সংস্করণের আইফোন কিনতে অনুপ্রাণিত করতে ধীরগতি করে দেয়ার কাজটি করে থাকে অ্যাপল।

অ্যাপলের দাবি, গ্রাহকদের সবচেয়ে ভালো কর্মক্ষমতাসম্পন্ন আইফোন দেয়াই তাদের লক্ষ্য। এর মধ্যে সার্বিক কর্মক্ষমতা ও হার্ডওয়্যার দীর্ঘস্থায়ী করার বিষয়টি রয়েছে। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চাহিদার থেকে কম শক্তি সরবরাহ করে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ব্যাটারির চার্জ কম থাকে।

আইফোনের সাম্প্রতিক সংস্করণ আইফোন ৬ ও ৬ এস এবং ৭-এর কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে অ্যাপল। নতুন কিছু সফটওয়্যার হালনাগাদের কারণে এ ফোনগুলো ধীরগতির হয়ে গেছে বলে জানানো হয়।

রয়টার্সের তথ্যমতে, অ্যাপলের বিরুদ্ধে সবগুলো মামলা করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক এবং ইলিনোয়িসের জেলা আদালতে। যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ আইফোন ব্যবহারকারীর পক্ষ থেকে এসব মামলায় অ্যাপলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া গত সোমবার ইসরায়েলে একই ধরনের একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

সাম্প্রতিক এসব মামলার বিষয়ে অ্যাপলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুরনো আইফোনের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়ার বিষয়টিকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। আইফোন ব্যবহারকারীদের অভিযোগ অ্যাপল পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করে আসছে। নতুন আইফোন বাজারে আসায় আগের সংস্করণগুলোতে সমস্যা তৈরি করে নতুন ফোনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য। অনেকটা পরিকল্পিতভাবে গ্রাহকদের ঠকিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

১৮ ডিসেম্বর প্রাইমেট ল্যাবস নামের একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রকাশিত তথ্যকে কেন্দ্র করে অ্যাপলের বিরুদ্ধে পুরনো আইফোনের কর্মক্ষমতা কমানোর অভিযোগ জোরালো হয়। প্রতিষ্ঠানটি আইফোনের কর্মক্ষমতা পরিমাপক একটি অ্যাপ উন্নয়ন করেছে। এ অ্যাপ ব্যবহার করে পুরনো আইফোনের প্রসেসিং গতি কমা এবং এর পেছনে কোনো ধরনের সফটওয়্যার পরিবর্তন দায়ী তা শনাক্ত করা গেছে।

বিষয়টি ঘিরে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ররি ভ্যান লু বলেন, অ্যাপল যদি পরিকল্পিতভাবে আইফোনের গতি কমিয়ে থাকে, তবে তা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি শুরুতে নতুন আইফোন কেনার পরিবর্তে ডিভাইসের ব্যাটারি পরিবর্তন করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সানফ্রান্সিসকোয় দায়েরকৃত একটি মামলায় দাবি করা হয়, আইফোনের ব্যাটারির সক্ষমতা এবং প্রসেসরের গতির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ সম্পর্কিত কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। অ্যাপল ব্যবসায় ফায়দা নিতে ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো আইফোনের ব্যাটারি সক্ষমতা এবং প্রসেসরের গতি কমিয়েছে।

 

ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।